ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মিরসরাইয়ে শিশু ধর্ষণ: এমপির নির্দেশের পর র‍্যাবের জালে প্রধান আসামি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশনার চার দিনের মাথায় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি জোরারগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিবেশী আনোয়ারের ছেলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। দীর্ঘ সময় পর শিশুটির মা তাকে খুঁজতে গিয়ে আনোয়ারের ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। দরজা খোলার পর রক্তাক্ত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় শিশুটি বেরিয়ে এসে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হলে আনোয়ার রামদা উঁচিয়ে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ঘটনার বিচার চেয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের শরণাপন্ন হন শিশুটির অসহায় পরিবার। সংসদ সদস্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাটের খান সিটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের লাতু মিয়ার ছেলে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হাসান জানান, র‍্যাব আসামিকে থানায় হস্তান্তরের পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

মিরসরাইয়ে শিশু ধর্ষণ: এমপির নির্দেশের পর র‍্যাবের জালে প্রধান আসামি

আপডেট সময় : ১০:১৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ছয় বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ারকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৭। স্থানীয় সংসদ সদস্যের কঠোর নির্দেশনার চার দিনের মাথায় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বারইয়ারহাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‍্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি জোরারগঞ্জ থানার রঘুনাথপুর এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি প্রতিবেশী আনোয়ারের ছেলের সঙ্গে খেলতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়। দীর্ঘ সময় পর শিশুটির মা তাকে খুঁজতে গিয়ে আনোয়ারের ঘরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পান। দরজা খোলার পর রক্তাক্ত ও ক্রন্দনরত অবস্থায় শিশুটি বেরিয়ে এসে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানায়। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনা জানাজানি হলে আনোয়ার রামদা উঁচিয়ে পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ১৩ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে জোরারগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, ঘটনার বিচার চেয়ে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল আমিনের শরণাপন্ন হন শিশুটির অসহায় পরিবার। সংসদ সদস্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন এবং অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

র‍্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বারইয়ারহাটের খান সিটি সেন্টার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি মো. আনোয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার জোরারগঞ্জ থানার পূর্ব দুর্গাপুর গ্রামের লাতু মিয়ার ছেলে।

জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হাসান জানান, র‍্যাব আসামিকে থানায় হস্তান্তরের পর তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।