ঢাকা ০২:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শুল্ক যুদ্ধের কবলে তৈরি পোশাক খাত: নীতি পরিবর্তনের অস্থিরতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ৯ ফেব্রুয়ারি। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ। দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত জটিল ও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কার্যনির্বাহী আদেশের ফলে শুল্কের হার নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সাধারণ বা বেসলাইন শুল্ক (MFN Tariff)

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক (HS Code 61 ও 62)। এই পণ্যগুলোর ওপর আগে থেকেই একটি নিয়মিত শুল্ক হার কার্যকর আছে, যাকে বলা হয় মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) ট্যারিফ।

  • পোশাক পণ্যে গড় শুল্ক: প্রায় ১৪.৭%।
  • তুলাজাত পণ্য (যেমন: টি-শার্ট, ডেনিম): এর ওপর নিয়মিত শুল্ক প্রায় ১৬.৫%।

২. ট্রাম্পের নতুন ‘সারচার্জ’ ও মোট শুল্কের হিসাব

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫% অতিরিক্ত সারচার্জ কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়াবে নিম্নরূপ:

পণ্যের ধরননিয়মিত শুল্ক (MFN)নতুন সারচার্জ (Sec 122)মোট কার্যকর শুল্ক
তুলাজাত পোশাক১৬.৫%১৫%৩১.৫%
সিনথেটিক পোশাক২৫% – ৩২%১৫%৪০% – ৪৭%

৩. বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির (৯ ফেব্রুয়ারি) বর্তমান অবস্থা

গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের ওপর ১৯% পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী:

  • চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি: এটি কার্যকর হতে দুই দেশের ‘রেটিফিকেশন’ বা আইনি অনুমোদন প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ আপাতত স্থগিত রেখেছে।
  • সুপ্রিম কোর্টের প্রভাব: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের ‘পাল্টা শুল্ক’ (Reciprocal Tariff) অবৈধ ঘোষণা করায় ১৯% শুল্কের আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
  • অনিশ্চয়তা: যদি যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের জন্য ১৫% সারচার্জ কার্যকর করে এবং বাংলাদেশের জন্য চুক্তির ১৯% বহাল থাকে, তবে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চুক্তিটি ‘রিনেগোশিয়েট’ বা পুনরায় আলোচনার কথা ভাবছে।

৪. আমদানিকারকদের জন্য সর্বশেষ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (CBP) জানিয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগের অবৈধ ঘোষিত ‘পাল্টা শুল্ক’ আদায় বন্ধ করা হবে। তবে একই দিন থেকে ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১৫% শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

৫. রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ার ফলে মার্কিন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি অর্ডারের বদলে ছোট চালানে অর্ডার দিচ্ছেন। ঢাকা চেম্বারের মতে, এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত সাড়ে ১৬ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

শুল্ক যুদ্ধের কবলে তৈরি পোশাক খাত: নীতি পরিবর্তনের অস্থিরতা

আপডেট সময় : ০১:৩৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশ পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি করেছে ৯ ফেব্রুয়ারি। সেই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের ওপর দেশটির পাল্টা শুল্কের হার ১৯ শতাংশ। দুই সপ্তাহ পার না হতেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট অবৈধ ঘোষণা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক কাঠামো বর্তমানে অত্যন্ত জটিল ও পরিবর্তনশীল পর্যায়ে রয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন কার্যনির্বাহী আদেশের ফলে শুল্কের হার নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো:

১. সাধারণ বা বেসলাইন শুল্ক (MFN Tariff)

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য হলো তৈরি পোশাক (HS Code 61 ও 62)। এই পণ্যগুলোর ওপর আগে থেকেই একটি নিয়মিত শুল্ক হার কার্যকর আছে, যাকে বলা হয় মোস্ট ফেভারড নেশন (MFN) ট্যারিফ।

  • পোশাক পণ্যে গড় শুল্ক: প্রায় ১৪.৭%।
  • তুলাজাত পণ্য (যেমন: টি-শার্ট, ডেনিম): এর ওপর নিয়মিত শুল্ক প্রায় ১৬.৫%।

২. ট্রাম্পের নতুন ‘সারচার্জ’ ও মোট শুল্কের হিসাব

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে সব দেশের পণ্যের ওপর ১৫% অতিরিক্ত সারচার্জ কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর মোট শুল্কের বোঝা দাঁড়াবে নিম্নরূপ:

পণ্যের ধরননিয়মিত শুল্ক (MFN)নতুন সারচার্জ (Sec 122)মোট কার্যকর শুল্ক
তুলাজাত পোশাক১৬.৫%১৫%৩১.৫%
সিনথেটিক পোশাক২৫% – ৩২%১৫%৪০% – ৪৭%

৩. বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তির (৯ ফেব্রুয়ারি) বর্তমান অবস্থা

গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি সই হয়েছিল, যেখানে বাংলাদেশের ওপর ১৯% পাল্টা শুল্ক (Reciprocal Tariff) নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী:

  • চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি: এটি কার্যকর হতে দুই দেশের ‘রেটিফিকেশন’ বা আইনি অনুমোদন প্রয়োজন, যা বাংলাদেশ আপাতত স্থগিত রেখেছে।
  • সুপ্রিম কোর্টের প্রভাব: মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের ‘পাল্টা শুল্ক’ (Reciprocal Tariff) অবৈধ ঘোষণা করায় ১৯% শুল্কের আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে।
  • অনিশ্চয়তা: যদি যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের জন্য ১৫% সারচার্জ কার্যকর করে এবং বাংলাদেশের জন্য চুক্তির ১৯% বহাল থাকে, তবে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে। এ কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চুক্তিটি ‘রিনেগোশিয়েট’ বা পুনরায় আলোচনার কথা ভাবছে।

৪. আমদানিকারকদের জন্য সর্বশেষ নির্দেশনা

যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (CBP) জানিয়েছে, ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে আগের অবৈধ ঘোষিত ‘পাল্টা শুল্ক’ আদায় বন্ধ করা হবে। তবে একই দিন থেকে ট্রাম্পের নতুন ঘোষিত ১৫% শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

৫. রপ্তানিকারকদের উদ্বেগ

ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কের হার ঘন ঘন পরিবর্তন হওয়ার ফলে মার্কিন ক্রেতারা দীর্ঘমেয়াদি অর্ডারের বদলে ছোট চালানে অর্ডার দিচ্ছেন। ঢাকা চেম্বারের মতে, এমনকি রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ শূন্য হলেও নিয়মিত সাড়ে ১৬ শতাংশ শুল্ক বহাল থাকবে, যা বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।