ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্ক বার্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিরিয়ার কুর্দি ইস্যু : ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ

ভূমিকা:
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)-এর সঙ্গে দেশটির নতুন সরকারের চুক্তি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সহায়তায় নিজেদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা এই সংগঠনটির বিলুপ্তি একদিকে যেমন সিরিয়ায় কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশ ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মূল বিষয়:
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের সঙ্গে ওয়াইপিজি-র চুক্তি দেশটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চুক্তির অধীনে ওয়াইপিজি তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং তাদের সদস্যরা সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই পরিবর্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের ফলে সম্ভব হয়েছে, যিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিয়া থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে ওয়াইপিজি-র অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তারা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

ইরাকের জন্য চ্যালেঞ্জ:
সিরিয়া সরকার ও ওয়াইপিজি-র চুক্তি ইরাকের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেশটির কর্তৃত্ব সুসংহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরাক তার পশ্চিম সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত হওয়ায় সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকে ইরাক কোনোভাবেই প্রান্তিক হিসেবে উপেক্ষা করতে পারে না। সিরিয়ার কুর্দিরা তাদের নিরাপত্তার জন্য ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিতে পারে, যা ইরাকের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

আইএস বন্দিদের স্থানান্তর:
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে আইএসের শত শত বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক এবং পিকেকে-র সঙ্গে যুক্ত কুর্দিরাও রয়েছে। এই স্থানান্তর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত আইনি ও পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বন্দিদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:
ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ইরান-মার্কিন উত্তেজনা সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কুর্দি ইস্যুতে বাগদাদের সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতাকে সীমিত করে রেখেছে। এছাড়াও, ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের উপস্থিতি উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

ভবিষ্যৎ করণীয়:
সিরিয়ার সরকার তার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে ইরাককে আশ্বস্ত করলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ইরাকের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ওয়াইপিজি সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সিরিয়া থেকে আসা আইএস জঙ্গিদের হুমকিও মোকাবিলা করতে হবে। এই জটিল পরিস্থিতিতে ইরাকের সীমান্ত অঞ্চল স্থিতিশীল করা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সিরিয়াকে একটি ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পাশে নেওয়া অপরিহার্য। এজন্য ইরাককে কূটনীতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আইনি কাঠামোকে সমন্বিত করতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

সিরিয়ায় ওয়াইপিজির বিলুপ্তি ইরাকের জন্য সতর্ক বার্তা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার কুর্দি ইস্যু : ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ

ভূমিকা:
সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে কুর্দি সশস্ত্র সংগঠন পিপলস প্রটেকশন ইউনিট (ওয়াইপিজি)-এর সঙ্গে দেশটির নতুন সরকারের চুক্তি আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনেছে। দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন ও ইসরায়েলি সহায়তায় নিজেদের স্বতন্ত্র আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করা এই সংগঠনটির বিলুপ্তি একদিকে যেমন সিরিয়ায় কুর্দিদের দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ের সমাপ্তি ঘটাচ্ছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশ ইরাকের জন্য নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

মূল বিষয়:
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা সরকারের সঙ্গে ওয়াইপিজি-র চুক্তি দেশটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কর্তৃত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এই চুক্তির অধীনে ওয়াইপিজি তাদের অস্ত্র ত্যাগ করবে এবং তাদের সদস্যরা সিরিয়ার সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হবে। এই পরিবর্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের ফলে সম্ভব হয়েছে, যিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে সিরিয়া থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহার করে নেন। এর ফলে ওয়াইপিজি-র অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তারা সরকারের সঙ্গে চুক্তি করতে বাধ্য হয়।

ইরাকের জন্য চ্যালেঞ্জ:
সিরিয়া সরকার ও ওয়াইপিজি-র চুক্তি ইরাকের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে দেশটির কর্তৃত্ব সুসংহত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরাক তার পশ্চিম সীমান্তে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা, রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রায় ৬০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত হওয়ায় সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত অঞ্চলকে ইরাক কোনোভাবেই প্রান্তিক হিসেবে উপেক্ষা করতে পারে না। সিরিয়ার কুর্দিরা তাদের নিরাপত্তার জন্য ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিতে পারে, যা ইরাকের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে পারে।

আইএস বন্দিদের স্থানান্তর:
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশের সঙ্গে সঙ্গে আইএসের শত শত বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক এবং পিকেকে-র সঙ্গে যুক্ত কুর্দিরাও রয়েছে। এই স্থানান্তর ইরাকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত আইনি ও পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই বন্দিদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:
ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং ইরান-মার্কিন উত্তেজনা সিরিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও কুর্দি ইস্যুতে বাগদাদের সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানানোর ক্ষমতাকে সীমিত করে রেখেছে। এছাড়াও, ইরাকে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের উপস্থিতি উত্তেজনা সৃষ্টির ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে।

ভবিষ্যৎ করণীয়:
সিরিয়ার সরকার তার সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে ইরাককে আশ্বস্ত করলেও, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে ইরাকের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। ওয়াইপিজি সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সিরিয়া থেকে আসা আইএস জঙ্গিদের হুমকিও মোকাবিলা করতে হবে। এই জটিল পরিস্থিতিতে ইরাকের সীমান্ত অঞ্চল স্থিতিশীল করা এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সিরিয়াকে একটি ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে পাশে নেওয়া অপরিহার্য। এজন্য ইরাককে কূটনীতি, নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আইনি কাঠামোকে সমন্বিত করতে হবে।