নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় চাঞ্চল্যকর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাদক ব্যবসার আধিপত্য বিস্তার এবং টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরে জামিনে মুক্তি পেয়ে কারাগার থেকে বাড়ি ফেরার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই খুন হয়েছেন ইমন (৩৯) নামের এক যুবক। সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাসদাইর মিস্ত্রিবাগ এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ইমন নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়িতে ফেরেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। নিহত ইমনের বাবা ওমর খৈয়ম জানান, মাদক মামলায় দীর্ঘ কারাভোগের পর সোমবার সন্ধ্যায় ইমন জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরেই ফেরদৌস নামের এক যুবক তাকে মোবাইলে ফোন করে মিস্ত্রিবাগ এলাকায় ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকেই সন্ত্রাসী জাহিদ, হৃদয় ওরফে চক্ষু হৃদয়, বিল্লালের পুত্র হৃদয় সহ আরও কয়েকজন অপেক্ষা করছিল। তারা ইমনকে দেখেই এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে ইমন সাদেক মিয়ার বাড়ির দিকে দৌড়ে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করলে সেখানেও তাকে কুপিয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ইমনকে শহরের খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবার অভিযোগ, হত্যাকারীদের মধ্যে চক্ষু হৃদয় এবং আজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছে। নিহত ইমন তার সাথে ইলেক্ট্রিকের কাজ করতেন বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিহত ইমন সন্ত্রাসী জাহিদ বাহিনীর একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তিনি মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং নিজেও মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদক বিক্রির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে ইমনের সাথে জাহিদ বাহিনীর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব চলছিল। এই পুরনো বিরোধের জের ধরেই কারাগার থেকে বের হওয়ার পর পূর্বপরিকল্পিতভাবে ইমনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মান্নান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 























