ঢাকা ০৮:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোশাক পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্তের আগে আরও নিবিড় গবেষণা ও জনমত যাচাই করা প্রয়োজন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩-০৪ সালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের বর্তমান ‘খাকি’ পোশাকটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সে সময় এদেশের আবহাওয়া, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং দিন ও রাতে সহজে শনাক্ত করার সক্ষমতাসহ নানা বাস্তব দিক বিবেচনা করা হয়েছিল। এছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে যাতে এর সাদৃশ্য না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনটির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বর্তমান সিদ্ধান্তে এসব ব্যবহারিক ও কারিগরি দিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন নির্ধারিত পোশাকটির সঙ্গে অন্য কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকের মিল থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এটি পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করেন।

অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা এই খাকি পোশাক পরেই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের মতে, এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয়, বরং এটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

বিবৃতিতে অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, পোশাক পরিবর্তন একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে সেই তহবিল বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ের লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি, যানবাহন সরবরাহ এবং সদস্যদের দক্ষতা ও মনোবল উন্নয়নে ব্যয় করা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে।

পুলিশের সদস্যদের আবেগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জনমতের ভিত্তিতে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

পুলিশের পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের

আপডেট সময় : ০৭:০০:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পোশাক পরিবর্তনের মতো বড় সিদ্ধান্তের আগে আরও নিবিড় গবেষণা ও জনমত যাচাই করা প্রয়োজন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৩-০৪ সালে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশের বর্তমান ‘খাকি’ পোশাকটি চূড়ান্ত করা হয়েছিল। সে সময় এদেশের আবহাওয়া, পুলিশ সদস্যদের গায়ের রং এবং দিন ও রাতে সহজে শনাক্ত করার সক্ষমতাসহ নানা বাস্তব দিক বিবেচনা করা হয়েছিল। এছাড়া অন্য কোনো বাহিনীর পোশাকের সঙ্গে যাতে এর সাদৃশ্য না থাকে, সে বিষয়েও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

সংগঠনটির দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া বর্তমান সিদ্ধান্তে এসব ব্যবহারিক ও কারিগরি দিকগুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি। নতুন নির্ধারিত পোশাকটির সঙ্গে অন্য কয়েকটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকের মিল থাকায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এটি পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে বলে তারা মনে করেন।

অ্যাসোসিয়েশন আরও জানায়, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যরা এই খাকি পোশাক পরেই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন, যা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের মতে, এই ইউনিফর্ম কেবল একটি পোশাক নয়, বরং এটি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও ঐতিহ্যের প্রতীক।

বিবৃতিতে অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়েছে, পোশাক পরিবর্তন একটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করে নতুন ইউনিফর্ম তৈরির চেয়ে সেই তহবিল বাহিনীর আধুনিকায়ন, থানা পর্যায়ের লজিস্টিক সাপোর্ট বৃদ্ধি, যানবাহন সরবরাহ এবং সদস্যদের দক্ষতা ও মনোবল উন্নয়নে ব্যয় করা অনেক বেশি যুক্তিসঙ্গত হবে।

পুলিশের সদস্যদের আবেগ এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত পুনরায় খতিয়ে দেখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও জনমতের ভিত্তিতে একটি টেকসই ও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।