ঢাকা ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, আড়াই লাখ মানুষ ঘরছাড়া

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং বোরদো শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফ্রান্স ও স্পেনে কয়েক দিন ধরে চলা এই দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

শনিবার রাতে বোরদোর পশ্চিমে সাতটি শহরের বাসিন্দাদেরও জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাসদস্যরা ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং আগুনের বিস্তার রোধে ফায়ারব্রেক তৈরিতে সহায়তা করছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত দাবানল বোরদো থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও, প্রবল বাতাসে ধোঁয়া শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বাসিন্দারা বাতাসে তীব্র পোড়া গন্ধ অনুভব করছেন।

অন্যদিকে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বীকার করেছেন যে, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে।’ রাজধানী মাদ্রিদের বাইরে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় দমকলকর্মীরা স্বস্তি পেলেও, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে দাবানলে একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের কোঠায় থাকা ওই ব্যক্তির লাশ তার গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। বোর্দোর কাছাকাছি এগিয়ে আসা দাবানলের গ্রাস থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসা স্পেন্সার র‍্যান্ডাল নামে এক পর্যটক আগুনের ভয়াবহতাকে ‘আতঙ্কজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, প্রায় ১০০ মাইল দূরে চলে আসার পরও তারা এখনও দাবানলের ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে শীর্ষ মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, অভিযানে ২ পুলিশ সদস্য আহত

ফ্রান্স-স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, আড়াই লাখ মানুষ ঘরছাড়া

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং বোরদো শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ফ্রান্স ও স্পেনে কয়েক দিন ধরে চলা এই দাবানলের কারণে এখন পর্যন্ত আড়াই লাখের বেশি মানুষ নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

শনিবার রাতে বোরদোর পশ্চিমে সাতটি শহরের বাসিন্দাদেরও জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ফ্রান্সের জিরোন্দ ও লঁদ অঞ্চলে প্রায় দুই লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফরাসি সরকার সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সেনাসদস্যরা ঝোপঝাড় পরিষ্কার এবং আগুনের বিস্তার রোধে ফায়ারব্রেক তৈরিতে সহায়তা করছেন। শনিবার সকাল পর্যন্ত দাবানল বোরদো থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করলেও, প্রবল বাতাসে ধোঁয়া শহরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে এবং বাসিন্দারা বাতাসে তীব্র পোড়া গন্ধ অনুভব করছেন।

অন্যদিকে স্পেনে জরুরি অবস্থা জারি রয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ স্বীকার করেছেন যে, ‘সামনে কঠিন সময় আসছে।’ রাজধানী মাদ্রিদের বাইরে আবহাওয়ার কিছুটা উন্নতি হওয়ায় দমকলকর্মীরা স্বস্তি পেলেও, ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে দাবানলে একজন বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সত্তরের কোঠায় থাকা ওই ব্যক্তির লাশ তার গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। বোর্দোর কাছাকাছি এগিয়ে আসা দাবানলের গ্রাস থেকে পরিবার নিয়ে পালিয়ে আসা স্পেন্সার র‍্যান্ডাল নামে এক পর্যটক আগুনের ভয়াবহতাকে ‘আতঙ্কজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তার ভাষায়, প্রায় ১০০ মাইল দূরে চলে আসার পরও তারা এখনও দাবানলের ধোঁয়ার গন্ধ পাচ্ছেন।