ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে অমলিন গাজী এরশাদ আলীর স্মৃতি: ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে নিভৃতে বিদায় নেওয়া কেশবপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও জননন্দিত নেতা গাজী এরশাদ আলীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সময়ের দীর্ঘ উনিশ বছর পেরিয়ে গেলেও কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে তাঁর অমলিন স্মৃতি আজও অম্লান। এই উপলক্ষে তাঁর নিজ এলাকা কেশবপুর, জেলা শহর যশোর এবং রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে পারিবারিকভাবে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ আসর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে গাজী এরশাদ আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। তাঁর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা এবং সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। একই দিনে যশোর শহর ও ঢাকায়ও পারিবারিকভাবে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

গাজী এরশাদ আলী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন নিয়ে যশোর-৬ (তৎকালীন ৯০ যশোর-০৬) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর এই বিজয় ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই আসনে তাঁর সমকক্ষ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আর কেউ অর্জন করতে পারেননি বলে স্থানীয়দের অভিমত।

রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতার গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখে নিজেকে শামিল করতেন। কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণায়, দরিদ্র কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে গাজী এরশাদ আলী ছিলেন সর্বদা সহজলভ্য। দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি তাঁর ছিল সমান শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা।

তাঁর শাসনামলে কেশবপুরে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারে তাঁর প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল। শুধু তাই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় কেশবপুর একটি সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আজও কেশবপুরের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় “গাজীর মোড়” নামটি। প্রশাসনিক নথিতে ভিন্ন নাম থাকলেও, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতিতে এই স্থানটি তাঁর নামেই পরিচিত। এলাকাবাসীর মতে, এটি তাঁর অসামান্য জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার এক জীবন্ত প্রমাণ।

মিলাদ মাহফিলে বক্তারা গাজী এরশাদ আলীকে একজন নিরহংকার, সদালাপী এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন জননেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তাঁর আচরণ ছিল সৌজন্যপূর্ণ ও সহনশীল, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।

তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গাজী এরশাদ আলীর আদর্শ ও কর্মধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। তাঁর জীবদ্দশায় যে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর উন্নয়নেও পরিবার তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই মাহফিলে বিশেষ কোরআনখানি ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত থাকে তাঁর কর্মে। গাজী এরশাদ আলীর কর্ম ও অবদান কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজসেবীরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের উচিত গাজী এরশাদ আলীর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক আচরণের ক্ষেত্রে। তাঁরা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।

গাজী এরশাদ আলীর মৃত্যুতে কেশবপুরবাসী একজন জনপ্রিয় ও জনমুখী নেতাকে হারায়। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো ম্লান হয়েছে, কিন্তু তাঁর কর্ম ও আদর্শ আজও মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত। ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল প্রমাণ করে যে, গাজী এরশাদ আলী কেবল একটি নাম নন, তিনি কেশবপুরের মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর প্রতি এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঁচিয়ে রাখবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে অমলিন গাজী এরশাদ আলীর স্মৃতি: ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ সালে নিভৃতে বিদায় নেওয়া কেশবপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও জননন্দিত নেতা গাজী এরশাদ আলীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতিতে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। সময়ের দীর্ঘ উনিশ বছর পেরিয়ে গেলেও কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে তাঁর অমলিন স্মৃতি আজও অম্লান। এই উপলক্ষে তাঁর নিজ এলাকা কেশবপুর, জেলা শহর যশোর এবং রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে পারিবারিকভাবে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ আসর কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন মসজিদে গাজী এরশাদ আলীর আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। তাঁর নিজ বাসভবনে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে পরিবার-পরিজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা এবং সর্বস্তরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। একই দিনে যশোর শহর ও ঢাকায়ও পারিবারিকভাবে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়, যেখানে তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।

গাজী এরশাদ আলী ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মনোনয়ন নিয়ে যশোর-৬ (তৎকালীন ৯০ যশোর-০৬) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর এই বিজয় ছিল এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এই আসনে তাঁর সমকক্ষ জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা আর কেউ অর্জন করতে পারেননি বলে স্থানীয়দের অভিমত।

রাজনীতির মাঠে তিনি ছিলেন এক ব্যতিক্রমী ব্যক্তিত্ব। ক্ষমতার গণ্ডিতে নিজেকে আবদ্ধ না রেখে তিনি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সুখ-দুঃখে নিজেকে শামিল করতেন। কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো ছিল তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্মৃতিচারণায়, দরিদ্র কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে গাজী এরশাদ আলী ছিলেন সর্বদা সহজলভ্য। দল-মত নির্বিশেষে সকলের প্রতি তাঁর ছিল সমান শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতা।

তাঁর শাসনামলে কেশবপুরে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসে। অসংখ্য স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা এবং সংস্কারে তাঁর প্রত্যক্ষ ও সক্রিয় ভূমিকা ছিল। শুধু তাই নয়, অবকাঠামোগত উন্নয়নেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। রাস্তা-ঘাট নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টায় কেশবপুর একটি সম্ভাবনাময় জনপদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

আজও কেশবপুরের মানুষের মুখে মুখে উচ্চারিত হয় “গাজীর মোড়” নামটি। প্রশাসনিক নথিতে ভিন্ন নাম থাকলেও, সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও স্মৃতিতে এই স্থানটি তাঁর নামেই পরিচিত। এলাকাবাসীর মতে, এটি তাঁর অসামান্য জনপ্রিয়তা ও জনসম্পৃক্ততার এক জীবন্ত প্রমাণ।

মিলাদ মাহফিলে বক্তারা গাজী এরশাদ আলীকে একজন নিরহংকার, সদালাপী এবং মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন জননেতা হিসেবে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, তিনি বিশ্বাস করতেন সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতিও তাঁর আচরণ ছিল সৌজন্যপূর্ণ ও সহনশীল, যা বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য একটি শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।

তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গাজী এরশাদ আলীর আদর্শ ও কর্মধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তারা বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন। তাঁর জীবদ্দশায় যে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, সেগুলোর উন্নয়নেও পরিবার তাদের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণকারী মুসল্লিরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আয়োজিত এই মাহফিলে বিশেষ কোরআনখানি ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত থাকে তাঁর কর্মে। গাজী এরশাদ আলীর কর্ম ও অবদান কেশবপুরবাসীর হৃদয়ে চিরকাল অমলিন থাকবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সমাজসেবীরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের উচিত গাজী এরশাদ আলীর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা ও মানবিক আচরণের ক্ষেত্রে। তাঁরা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে জনকল্যাণে কাজ করাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য।

গাজী এরশাদ আলীর মৃত্যুতে কেশবপুরবাসী একজন জনপ্রিয় ও জনমুখী নেতাকে হারায়। তাঁর শারীরিক উপস্থিতি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়তো ম্লান হয়েছে, কিন্তু তাঁর কর্ম ও আদর্শ আজও মানুষের স্মৃতিতে জীবন্ত। ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিল প্রমাণ করে যে, গাজী এরশাদ আলী কেবল একটি নাম নন, তিনি কেশবপুরের মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও স্মৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁর প্রতি এই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা তাঁকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বাঁচিয়ে রাখবে।