ঢাকা ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

৬৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি আফিল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তিন ছেলেকে নোটিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৬৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁদের তিন ছেলের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। আজ রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৮ টাকার স্থাবর এবং ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ২৮১ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকা। তবে এর বিপরীতে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকা। ফলে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারে শেখ আফিল উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. তাহেরা সোবহারের নামে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ২৩২ টাকা ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকা। অর্থাৎ ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা করা হয়েছে।

দুদক আরও জানায়, সাবেক এই সংসদ সদস্যের তিন পুত্রের সম্পদের তথ্যেও বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধানে বড় ছেলে শেখ কুতুব উদ্দিনের আয়ের তুলনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭৩৬ টাকা, মেজ ছেলে শেখ তামিম উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৮ টাকা এবং ছোট ছেলে আফনান উদ্দিনের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৬ টাকা অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য মিলেছে। এই প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাঁদের তিনজনের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘটনায় ‘মব-কালচারের’ আশঙ্কা জামায়াত আমিরের

৬৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: সাবেক এমপি আফিল ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা, তিন ছেলেকে নোটিশ

আপডেট সময় : ০৯:০৮:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যশোর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় ৬৩ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে তাঁদের তিন ছেলের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে। আজ রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, প্রথম মামলার এজাহারে সাবেক সংসদ সদস্য শেখ আফিল উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮৮ টাকার স্থাবর এবং ৪৩ কোটি ৯৫ লাখ ৯ হাজার ২৮১ টাকার অস্থাবরসহ মোট ৪৫ কোটি ৪২ লাখ ৯৮ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে তাঁর পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া গেছে ৮ কোটি ৪৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৩ টাকা। সব মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৮৬ লাখ ৬৬ হাজার ২৭২ টাকা। তবে এর বিপরীতে তাঁর বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ৭ কোটি ৬০ লাখ ৬১ হাজার ৮৫০ টাকা। ফলে ৪৬ কোটি ২৬ লাখ ৪ হাজার ৪২২ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়।

দ্বিতীয় মামলার এজাহারে শেখ আফিল উদ্দিনের স্ত্রী মোছা. তাহেরা সোবহারের নামে ১৮ কোটি ৫৫ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৩ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে ৬৭ লাখ ৭৫ হাজার ২৩২ টাকা ব্যয়সহ মোট সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে ১৯ কোটি ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৯৫ টাকা। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৮৭ টাকা। অর্থাৎ ১৬ কোটি ৫ লাখ ১১ হাজার ৩০৮ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধেও একই আইনে মামলা করা হয়েছে।

দুদক আরও জানায়, সাবেক এই সংসদ সদস্যের তিন পুত্রের সম্পদের তথ্যেও বড় ধরনের অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। দুদকের অনুসন্ধানে বড় ছেলে শেখ কুতুব উদ্দিনের আয়ের তুলনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ১২ হাজার ৭৩৬ টাকা, মেজ ছেলে শেখ তামিম উদ্দিনের নামে ১ কোটি ৯৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৭৮ টাকা এবং ছোট ছেলে আফনান উদ্দিনের ক্ষেত্রে ৭০ লাখ ৭৪ হাজার ২৩৬ টাকা অতিরিক্ত সম্পদের তথ্য মিলেছে। এই প্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারায় তাঁদের তিনজনের নামে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।