মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
০৯:৪৪ অপরাহ্ন | ২৯শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | বৃহঃস্পতিবার, ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫৩৮ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভে বড় উল্লম্ফন

  • হালনাগাদ সময় : ০৬:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অংকের ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কার্যদিবসে আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই অর্থ কেনা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৩৮ কোটি বা ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ডলার ক্রয়ের এই ইতিবাচক প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম৬’ অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল রিজার্ভ। তবে পরবর্তীতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বর্তমানের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলেই রিজার্ভের এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দাম যেন হুট করে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এই পদক্ষেপ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

আসামি হাজিরা ডিজিটাল করা গেলে যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে: আইনমন্ত্রী

29 October 2026

শাহজালালে দুই চীনা যাত্রীর অন্তর্বাসে মিলল ২৪ কোটি টাকার সোনা

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

বাজার স্থিতিশীল রাখতে ৫৩৮ কোটি ডলার কিনল কেন্দ্রীয় ব্যাংক, রিজার্ভে বড় উল্লম্ফন

হালনাগাদ সময় : ০৬:৩৪:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে বড় অংকের ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ কার্যদিবসে আটটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এই অর্থ কেনা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৩৮ কোটি বা ৫ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

ডলার ক্রয়ের এই ইতিবাচক প্রভাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম৬’ অনুযায়ী, প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ এখন ৩০ দশমিক শূন্য ৬ বিলিয়ন ডলার।

রিজার্ভের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২১ সালের আগস্টে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছিল রিজার্ভ। তবে পরবর্তীতে তা ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। বর্তমানের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) উচ্চ প্রবৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ফলেই রিজার্ভের এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে। চলতি মাসের প্রথম ২১ দিনেই দেশে ২৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি। এছাড়া চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ১৭৪ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭৮৭ কোটি ডলার, অর্থাৎ রেমিট্যান্স প্রবাহে ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে জানান, বর্তমানে বাজারে ডলারের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডলারের দাম যেন হুট করে অস্বাভাবিকভাবে কমে না যায়, তা নিশ্চিত করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে ডলার কিনছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডলারের দর অতিরিক্ত কমে গেলে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ঝুঁকি থাকে। বাজার স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এই পদক্ষেপ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Share this news as a Photo Card