ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূতের গুরুতর অভিযোগ: জাতিসংঘে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধার দাবি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বিশেষ করে, জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

রাষ্ট্রদূত আনসারী তার পোস্টে জানান, সম্প্রতি তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারেন যে সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নাকি জাতিসংঘে চাকরি খুঁজছেন। যদিও তিনি এই খবরের সত্যতা যাচাই করেননি এবং ব্যক্তিগতভাবে এতে আগ্রহীও নন, তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মেক্সিকোতে নিয়োগ, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভোটের আগে দেশে না আসার পরামর্শসহ নানা বিষয়ে তিনি প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি এই পদে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। লাটভিয়ার মিস ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে, তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে সম্মতি জানালেও, পরে তার কাছ থেকে ‘not to proceed’ (এগিয়ে না যাওয়ার) বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন আনসারী। তিনি জানান, এ ধরনের পদে সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও নোট ভারবাল প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় আগ্রহী থাকলেও তিনি বাংলাদেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন। আবেদন পাঠানোর পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে এমন বার্তা পান এবং জবাবে তিনি জানান যে আবেদন ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে তার ফোন কল আর গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হয় না, তবে নিজের দেশের ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করলে তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান। তবে তাকে বিব্রত করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয় যে, তিনি (রাষ্ট্রদূত) নির্বাচিত হবেন না, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। অথচ এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভোটাভুটি নেই; সদস্য রাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ শর্টলিস্ট করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।

পোস্টের শেষে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের দেশের সমর্থন না পেলেও অনেকে এখন বিভিন্ন পদ পাওয়ার জন্য তৎপর। দায়িত্ববোধের কারণে তিনি সব বিষয় এখনই প্রকাশ করছেন না, তবে সময় হলে বিস্তারিত জানাবেন এবং একটি বই লিখছেন বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার মুশফিকুল ফজল আনসারীকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং এরপর থেকেই তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কনকাকাফ চ্যাম্পিয়ন্স কাপে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভানের ঐতিহাসিক অভিষেক

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূতের গুরুতর অভিযোগ: জাতিসংঘে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধার দাবি

আপডেট সময় : ০৪:৫২:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ এনেছেন। বিশেষ করে, জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে এই অভিযোগ উত্থাপন করেন।

রাষ্ট্রদূত আনসারী তার পোস্টে জানান, সম্প্রতি তিনি একটি সংবাদ মাধ্যমে জানতে পারেন যে সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নাকি জাতিসংঘে চাকরি খুঁজছেন। যদিও তিনি এই খবরের সত্যতা যাচাই করেননি এবং ব্যক্তিগতভাবে এতে আগ্রহীও নন, তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে তাকে বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। মেক্সিকোতে নিয়োগ, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভোটের আগে দেশে না আসার পরামর্শসহ নানা বিষয়ে তিনি প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি এই পদে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। লাটভিয়ার মিস ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হয়। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে, তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা প্রাথমিকভাবে আবেদন করতে সম্মতি জানালেও, পরে তার কাছ থেকে ‘not to proceed’ (এগিয়ে না যাওয়ার) বার্তা পান বলে অভিযোগ করেন আনসারী। তিনি জানান, এ ধরনের পদে সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন ও নোট ভারবাল প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতায় আগ্রহী থাকলেও তিনি বাংলাদেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন। আবেদন পাঠানোর পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে এমন বার্তা পান এবং জবাবে তিনি জানান যে আবেদন ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এরপর থেকে তার ফোন কল আর গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আবেদন করলেই নিয়োগ নিশ্চিত হয় না, তবে নিজের দেশের ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ। তিনি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিষয়টি ভাগাভাগি করলে তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলে জানান। তবে তাকে বিব্রত করতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেননি।

তিনি আরও দাবি করেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জানানো হয় যে, তিনি (রাষ্ট্রদূত) নির্বাচিত হবেন না, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। অথচ এই প্রক্রিয়ায় কোনো ভোটাভুটি নেই; সদস্য রাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ শর্টলিস্ট করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।

পোস্টের শেষে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিজের দেশের সমর্থন না পেলেও অনেকে এখন বিভিন্ন পদ পাওয়ার জন্য তৎপর। দায়িত্ববোধের কারণে তিনি সব বিষয় এখনই প্রকাশ করছেন না, তবে সময় হলে বিস্তারিত জানাবেন এবং একটি বই লিখছেন বলেও উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার মুশফিকুল ফজল আনসারীকে মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং এরপর থেকেই তিনি এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন।