ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

নেতানিয়াহু সরকারের আগ্রাসন: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও বসতি সম্প্রসারণ জোরদার

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর দমন-পীড়ন ও সামরিক তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সেনাচৌকি সম্প্রসারণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি কট্টরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা জোরদার করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আগ্রাসনের অংশ হিসেবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত শুক্রবার দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াওয়েয়া জানিয়েছেন, নাবলুসের নিকটবর্তী তাল গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং বাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে সিলগালা করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ঘাতক হামলায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ধ্বংস করা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের একটি নীতি হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি সমষ্টিগত শাস্তি, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হন। ফিলিস্তিনি সূত্র মতে, অবরুদ্ধ তাল গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালালে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। গ্রামটি অবৈধ ইসরাইলি বসতি ‘হাভাত গিলাদ’-এর কাছে অবস্থিত। স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষা করার চেষ্টা করলে বসতি স্থাপনকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ঘুরতে আসা ইসরাইলিদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা সেনা পাঠায়।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযানে ৮০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া কুসরা শহরে আর-রাহমা মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লোহাগাড়া প্রেস ইউনিটের নতুন কমিটি গঠিত: নুরুল আলম সভাপতি, সেলিম উদ্দীন সাধারণ সম্পাদক

নেতানিয়াহু সরকারের আগ্রাসন: পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও বসতি সম্প্রসারণ জোরদার

আপডেট সময় : ০১:৪০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বাহিনীর দমন-পীড়ন ও সামরিক তৎপরতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একের পর এক ফিলিস্তিনি শহর ও গ্রামে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে অবৈধ বসতি স্থাপন ও সেনাচৌকি সম্প্রসারণের কাজও দ্রুত গতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সামরিক অভিযানের পাশাপাশি কট্টরপন্থী ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরাও ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা জোরদার করেছে।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী আগ্রাসনের অংশ হিসেবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলি সেনা নিহতের ঘটনায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। গত শুক্রবার দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে সামরিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল এলা ওয়াওয়েয়া জানিয়েছেন, নাবলুসের নিকটবর্তী তাল গ্রামে অভিযুক্তদের বাড়িতে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং বাড়িগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সাময়িকভাবে সিলগালা করার উদ্দেশ্যে এই অভিযান চালানো হয়েছে।

ঘাতক হামলায় অভিযুক্ত ফিলিস্তিনিদের বাড়ি ধ্বংস করা ইসরাইলের দীর্ঘদিনের একটি নীতি হলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে আসছে। সংস্থাগুলোর মতে, এটি একটি সমষ্টিগত শাস্তি, যা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। গত শুক্রবার নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে ইসরাইলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি এবং দুই ইসরাইলি সেনা নিহত হন। ফিলিস্তিনি সূত্র মতে, অবরুদ্ধ তাল গ্রামে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালালে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। গ্রামটি অবৈধ ইসরাইলি বসতি ‘হাভাত গিলাদ’-এর কাছে অবস্থিত। স্থানীয় ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, ফিলিস্তিনিরা নিজেদের ঘরবাড়ি রক্ষা করার চেষ্টা করলে বসতি স্থাপনকারীরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তবে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর বক্তব্য অনুযায়ী, ওই এলাকায় ঘুরতে আসা ইসরাইলিদের ওপর হামলার খবর পেয়ে তারা সেনা পাঠায়।

এদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে অভিযানে ৮০ জন ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইলি বাহিনী। এছাড়া কুসরা শহরে আর-রাহমা মসজিদে আগুন দিয়েছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা।