রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থী ইকরাম হোসেন মোল্লাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার দায়ে দুই বন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে লাশ গুমের দায়ে তাদের সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এই দণ্ড কার্যকর না হলে আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রোববার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সিদ্দিক ও মো. শান্ত মিয়া। রায় ঘোষণার সময় আসামি সিদ্দিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে, অপর আসামি শান্ত মিয়া পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, গত বছরের ৪ মে রাতে পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ইকরামকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় তার বন্ধু শান্ত মিয়া ও সিদ্দিক। এরপর খিলক্ষেত থানাধীন পাতিরা ও ডুমনি এলাকার মাঝামাঝি বসুন্ধরা বালুর চরে নিয়ে তাদের হাতে থাকা হাতুড়ি ও ভোঁতা অস্ত্র দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়। একপর্যায়ে এন্টিকাটার দিয়ে গলা কেটে ইকরামকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর দুই বন্ধু মিলে লাশ গুমের চেষ্টা করে। তারা নিহতের মৃতদেহ পাশের একটি ডোবায় ফেলে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রাখে। ঘটনার দুই দিন পর, গত বছরের ৬ মে পুলিশ ওই স্থান থেকে ইকরামের মরদেহ উদ্ধার করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের বাবা মো. কবির হোসেন মোল্লা বাদী হয়ে খিলক্ষেত থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ গত বছরের ২৬ নভেম্বর দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। পরবর্তীতে, চলতি বছরের ২৯ ফেব্রুয়ারি আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালে মোট ২৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। বিচার শেষে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























