ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লব: যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যায় সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুরসহ ১১ জনের বিচার শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে রোববার (০৯ মার্চ) বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আদালত এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন এবং প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।

রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার অন্য ৯ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির এবং তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এসআই সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদাত আলীর বিরুদ্ধেও বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাইম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে কিশোর তাইমকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করা হয়। গুলবিদ্ধ অবস্থায় তার বন্ধু রাহাত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তাইমকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে যেতে বাধ্য করে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা প্রদান করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

জুলাই বিপ্লব: যাত্রাবাড়ীতে তাইম হত্যায় সাবেক পুলিশ কমিশনার হাবিবুরসহ ১১ জনের বিচার শুরু

আপডেট সময় : ০১:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই বিপ্লব চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে পুলিশ কর্মকর্তার সন্তান ইমাম হাসান তাইমকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ ১১ জন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে রোববার (০৯ মার্চ) বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

আদালত এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করেছেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন এবং প্রথম সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হবে।

রোববার সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি—যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান এবং তৎকালীন ওসি (তদন্ত) জাকির হোসেনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। মামলার অন্য ৯ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির এবং তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস। এছাড়া যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন, এসআই সাজ্জাদ উজ জামান ও মো. শাহদাত আলীর বিরুদ্ধেও বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালতে শুনানির সময় চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম তাইম হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ নির্দেশে কিশোর তাইমকে অত্যন্ত কাছ থেকে গুলি করা হয়। গুলবিদ্ধ অবস্থায় তার বন্ধু রাহাত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাকেও লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং তাইমকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে যেতে বাধ্য করে। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা বিবেচনায় নিয়ে অভিযোগ গঠনের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পূর্ণাঙ্গ বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশনা প্রদান করেন।