ঢাকা ১০:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কল্যাণপুর জাহাজবাড়ি হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৬ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (০২ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামক ভবনে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভবনের বিশেষ আকৃতির কারণে স্থানীয়ভাবে এটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। ওই অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে নয়জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে এবং হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। সে সময় নিহতদের ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরদিন মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই অভিযানের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে নতুন বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ওই নয় তরুণকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৬ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং তাদের আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শ্রীপুরে ১২ বিঘার সূর্যমুখী বাগান: কৃষি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত

কল্যাণপুর জাহাজবাড়ি হত্যাকাণ্ড: শেখ হাসিনাসহ ৬ আসামিকে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

আপডেট সময় : ১২:৪৬:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ হিসেবে পরিচিত একটি ভবনে কথিত ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ছয় আসামির বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় আসামিদের আদালতে হাজির করার উদ্দেশ্যেই এই আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (০২ মার্চ) দুপুরে ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও অন্যান্য অভিযুক্তরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহিদুল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম এবং ডিএমপির মিরপুর বিভাগের সাবেক উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীম উদ্দীন মোল্লা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুরের ৫ নম্বর সড়কের ‘তাজ মঞ্জিল’ নামক ভবনে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভবনের বিশেষ আকৃতির কারণে স্থানীয়ভাবে এটি ‘জাহাজবাড়ি’ নামে পরিচিত ছিল। ওই অভিযানের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, অভিযানে নয়জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়েছে এবং হাসান নামে একজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়েছে। সে সময় নিহতদের ‘নব্য জেএমবি’র সদস্য হিসেবে দাবি করা হয়েছিল। এই ঘটনার পরদিন মিরপুর মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়, যা বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই অভিযানের নেপথ্য কাহিনী নিয়ে নতুন বিতর্ক ও অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে যে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে ওই নয় তরুণকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ৬ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে এই ঘটনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই মামলার ধারাবাহিকতায় পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করতে এবং তাদের আদালতে হাজির হওয়ার সুযোগ দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হলো।