ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

## ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক: প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও নতুন চ্যালেঞ্জ

ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অবস্থান বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সেখানে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। বরং প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে দেখা যাচ্ছে নেতিবাচক প্রবণতা।

আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মূল্য হ্রাস:

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউতে মোট তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, আমদানির পরিমাণ বাড়লেও গড় একক দাম ১০.২৭ শতাংশ কমে গেছে। এই মূল্যচাপের প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতেও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও একক দাম ৩.৮৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। ওই মাসে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি মূল্য ১২.০৫ শতাংশ কমেছে, যদিও সরবরাহের পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। একক দামের বড় পতন রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে অনেক রপ্তানিকারক বিকল্প বাজার খুঁজছেন। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজার তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশ ইইউতে পণ্য পাঠাতে আগ্রাসীভাবে ঝুঁকছে। স্বাভাবিকভাবেই, এর প্রভাবে ইউরোপে পোশাকের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে এবং ইইউয়ের বাজারে পোশাকের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯.৪৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি ৪.১৪ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে নিটওয়্যার পণ্যে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে কমেছে ১.৮৭ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির বদলে এই পতন রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন চাপ:

বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালে এটি কার্যকর হবে। চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকের ওপর ইউরোপে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। শুধু পোশাক নয়, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও গহনাসহ আরও কয়েকটি খাতেও ভারত শুল্ক সুবিধা পাবে।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও দাবি করা হচ্ছে যে, ইউরোপে বাংলাদেশের যে বাজার রয়েছে, তার বড় অংশ নিজেদের দখলে নিতে দিল্লি মরিয়া।

বাংলাদেশের করণীয়:

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে কম উৎপাদন ব্যয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশটি দ্রুত ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলছে, ইইউ বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন শুধু পরিমাণ নয়, মূল্য ও মানের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রতিযোগী দেশগুলো যখন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রণোদনা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ না করলে ইউরোপে বাংলাদেশের বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান ছাড়া ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনেক বেশি শুল্কের কারণে তারা কম দামে ইইউতে রপ্তানি করছে। এ কারণে সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটপাট, উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের শিল্প খাত বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। যেখানে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতা জোরদার করছে, সেখানে সরকারিভাবে সহায়তা না বাড়ালে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিল্প-সাহিত্যচর্চা রাজনীতির ঊর্ধ্বে: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ছে

আপডেট সময় : ০৯:৩৬:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## ইউরোপীয় বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক: প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি ও নতুন চ্যালেঞ্জ

ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের দীর্ঘদিনের সুদৃঢ় অবস্থান বর্তমানে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি সেখানে একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতি আর আগের মতো নেই। বরং প্রতিযোগিতা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে দেখা যাচ্ছে নেতিবাচক প্রবণতা।

আমদানি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মূল্য হ্রাস:

ইউরোপীয় পরিসংখ্যান দপ্তর ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইইউতে মোট তৈরি পোশাক আমদানি আগের বছরের তুলনায় ২.১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৯০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। তবে, আমদানির পরিমাণ বাড়লেও গড় একক দাম ১০.২৭ শতাংশ কমে গেছে। এই মূল্যচাপের প্রভাব বাংলাদেশের রপ্তানিতেও স্পষ্ট। ২০২৫ সালে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১৯.৪১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছালেও একক দাম ৩.৮৪ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে এই পতন আরও বেশি স্পষ্ট হয়েছে। ওই মাসে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি মূল্য ১২.০৫ শতাংশ কমেছে, যদিও সরবরাহের পরিমাণ প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। একক দামের বড় পতন রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির প্রধান কারণ:

বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের কারণে অনেক রপ্তানিকারক বিকল্প বাজার খুঁজছেন। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় বাজার তাদের প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। এর ফলে বিভিন্ন দেশ ইইউতে পণ্য পাঠাতে আগ্রাসীভাবে ঝুঁকছে। স্বাভাবিকভাবেই, এর প্রভাবে ইউরোপে পোশাকের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে এবং ইইউয়ের বাজারে পোশাকের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্রমতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ৯.৪৬ বিলিয়ন ডলারে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৯.৮৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রপ্তানি ৪.১৪ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে নিটওয়্যার পণ্যে রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে ৫.৫৪ শতাংশ এবং ওভেন পোশাকে কমেছে ১.৮৭ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির বদলে এই পতন রপ্তানিকারকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ভারতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নতুন চাপ:

বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো ভারতের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদ্য ঘোষিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি। দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের আলোচনা শেষে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদীয় অনুমোদন পেলে ২০২৭ সালে এটি কার্যকর হবে। চুক্তি কার্যকর হলে ভারতীয় পোশাকের ওপর ইউরোপে প্রায় ১২ শতাংশ শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেওয়া হবে। শুধু পোশাক নয়, চামড়াজাত পণ্য, হস্তশিল্প ও গহনাসহ আরও কয়েকটি খাতেও ভারত শুল্ক সুবিধা পাবে।

ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই চুক্তির মাধ্যমে ইউরোপে ভারতের টেক্সটাইল রপ্তানি কয়েকগুণ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও দাবি করা হচ্ছে যে, ইউরোপে বাংলাদেশের যে বাজার রয়েছে, তার বড় অংশ নিজেদের দখলে নিতে দিল্লি মরিয়া।

বাংলাদেশের করণীয়:

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় অর্ধেকই যায় ইইউভুক্ত দেশগুলোতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই বাজারে রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় এক হাজার ৯৭১ কোটি ডলার। ভারতের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হলে কম উৎপাদন ব্যয় ও নীতিগত সহায়তার কারণে দেশটি দ্রুত ইউরোপের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) বলছে, ইইউ বাজারে টিকে থাকতে হলে এখন শুধু পরিমাণ নয়, মূল্য ও মানের দিকেও নজর দিতে হবে। প্রতিযোগী দেশগুলো যখন দ্রুত সিদ্ধান্ত ও প্রণোদনা দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সময়োপযোগী কৌশল গ্রহণ না করলে ইউরোপে বাংলাদেশের বাজার ধীরে ধীরে সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। উচ্চমূল্যের পণ্য উৎপাদন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান ছাড়া ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইএবি) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে পোশাকের রপ্তানি কমে যাওয়ার প্রধান কারণ চীন ও ভারতের আগ্রাসী রপ্তানি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অনেক বেশি শুল্কের কারণে তারা কম দামে ইইউতে রপ্তানি করছে। এ কারণে সেখানে বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে। তিনি আরও বলেন, ব্যাংক লুটপাট, উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কারণে বাংলাদেশের শিল্প খাত বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে। যেখানে চীন, ভারত ও ভিয়েতনাম নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়িয়ে নিজেদের সক্ষমতা জোরদার করছে, সেখানে সরকারিভাবে সহায়তা না বাড়ালে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।