ঢাকা ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আদালতে দায় স্বীকার: শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় সাবেক বিমান এমডির স্ত্রী কারাগারে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী এক এগারো বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিমান্ড শেষে আসামি বিথীকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুরের পাঁচ দিন এবং বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে গৃহকর্মী রূপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।

রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রূপালীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ২০ ফেব্রুয়ারি দায় স্বীকারে অস্বীকৃতি জানানোয় সাবেক এমডি সাফিকুরকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই দিনই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসায় শিশু গৃহকর্মীর প্রয়োজন ছিল। এই খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোস্তফা তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর থেকে আসামিরা মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী গোলাম মোস্তফাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যায় মেয়েটিকে বুঝে নিতে গিয়ে মোস্তফা দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথা বলতে পারছে না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোস্তফা তার মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার দেখা করে যাওয়ার পর থেকে শফিকুর রহমান, বিথী এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে মারপিট করত। তারা গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এই ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সামরিক সমীকরণ: চীন থেকে অত্যাধুনিক সুপারসনিক মিসাইল কিনছে ইরান

আদালতে দায় স্বীকার: শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন মামলায় সাবেক বিমান এমডির স্ত্রী কারাগারে

আপডেট সময় : ০৮:১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বিথী এক এগারো বছর বয়সী শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইসমাইল হোসেনের আদালতে তার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। জবানবন্দি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রিমান্ড শেষে আসামি বিথীকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হন। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তার জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি সাবেক এমডি শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত সাফিকুরের পাঁচ দিন এবং বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে গৃহকর্মী রূপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল।

রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রূপালীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরদিন ২০ ফেব্রুয়ারি দায় স্বীকারে অস্বীকৃতি জানানোয় সাবেক এমডি সাফিকুরকেও কারাগারে পাঠানো হয়। তবে ওই দিনই আরেক গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন এবং তাকেও কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত বছরের জুন মাসে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসায় শিশু গৃহকর্মীর প্রয়োজন ছিল। এই খবর পেয়ে ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা গোলাম মোস্তফা তার ১১ বছর বয়সী মেয়েকে ওই বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মোস্তফা তার মেয়েকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর থেকে আসামিরা মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী গোলাম মোস্তফাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ, তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যায় মেয়েটিকে বুঝে নিতে গিয়ে মোস্তফা দেখতে পান, তার মেয়ের দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথা বলতে পারছে না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোস্তফা তার মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মেয়েটি জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবার দেখা করে যাওয়ার পর থেকে শফিকুর রহমান, বিথী এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে মারপিট করত। তারা গরম খুন্তি দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করেছে। এই ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।