ঢাকা ১১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হলো মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) একুশে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার) যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।

সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য কালো ব্যাজ ধারণ করেন, যা ছিল ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শোক এবং তাদের স্মৃতিকে শক্তিতে রূপান্তরের এক প্রতীকী অঙ্গীকার।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরী প্রশাসনিক চত্বর থেকে বের হয়। শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রভাতফেরীটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিভ্রমণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এসে শেষ হয়।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথমে ভাইস-চ্যান্সেলর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, প্রভোস্টদের সমন্বয়ে গঠিত ছয়টি হলসমূহের শিক্ষার্থীরা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় মহান মাতৃভাষার তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা এবং সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আবু আশরাফ খান।

ভাইস-চ্যান্সেলর তার আবেগঘন বক্তব্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘প্রেরণা ও সংগ্রামের চিরন্তন উৎস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা ভাষাই একমাত্র ভাষা, যার জন্য প্রাণ বিসর্জনের নজির রয়েছে এবং যে ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের কল্যাণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভা সফল নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনাকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল বলেও স্মরণ করেন। উপাচার্য দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ” ৩০ লক্ষ শহিদ ও ২ লক্ষ মা-বোনদের সম্ভ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই বাংলাদেশকে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। তিনি দেশমাতৃকার মর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।”

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহিদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তাণ্ডব: গুলিতে প্রাণ হারালেন কুতুবদিয়ার এক জেলে

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হলো মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

আপডেট সময় : ০৫:০৯:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) একুশে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (শনিবার) যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা এবং আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করেছে। ভাষা শহিদদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।

সকাল ৭টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ৩৬শে জুলাই চত্বরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতভাবে উত্তোলন করার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। সকাল ৯টা ১০ মিনিটে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্য কালো ব্যাজ ধারণ করেন, যা ছিল ভাষা শহিদদের প্রতি গভীর শোক এবং তাদের স্মৃতিকে শক্তিতে রূপান্তরের এক প্রতীকী অঙ্গীকার।

সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরী প্রশাসনিক চত্বর থেকে বের হয়। শিক্ষক সমিতি, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রভাতফেরীটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পরিভ্রমণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এসে শেষ হয়।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে প্রথমে ভাইস-চ্যান্সেলর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে শিক্ষক সমিতি, শিক্ষকবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাইমারি ও হাই স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, প্রভোস্টদের সমন্বয়ে গঠিত ছয়টি হলসমূহের শিক্ষার্থীরা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ভাষা শহিদদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরীফ রায়হানের সঞ্চালনায় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা সভায় মহান মাতৃভাষার তাৎপর্য ও চেতনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সফিউল ইসলাম আফ্রাদ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলম, রেজিস্ট্রার মোঃ আবদুল্লাহ্ মৃধা এবং সিনিয়র শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ আবু আশরাফ খান।

ভাইস-চ্যান্সেলর তার আবেগঘন বক্তব্যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘প্রেরণা ও সংগ্রামের চিরন্তন উৎস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি বলেন, “পৃথিবীর ইতিহাসে বাংলা ভাষাই একমাত্র ভাষা, যার জন্য প্রাণ বিসর্জনের নজির রয়েছে এবং যে ভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দেশের কল্যাণে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে এবং নবগঠিত মন্ত্রিসভা সফল নেতৃত্ব দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি ভাষা আন্দোলনের অমর চেতনাকে ধারণ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল বলেও স্মরণ করেন। উপাচার্য দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ” ৩০ লক্ষ শহিদ ও ২ লক্ষ মা-বোনদের সম্ভ্রমের মাধ্যমে অর্জিত এই বাংলাদেশকে নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল দেশবিরোধী অপতৎপরতায় লিপ্ত আছে। তিনি দেশমাতৃকার মর্যাদা ও স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত রাখতে সবাইকে নতুন করে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান।”

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ভাষা শহিদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।