ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রমজানের শুরুতেই বাজার বেসামাল: চড়া দামে দিশাহারা ক্রেতা, সর্বত্রই ঊর্ধ্বগতি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রথম দিন থেকেই দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই চড়া। এতে সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোজাদাররা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবরে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইফতারের অপরিহার্য শসা, বেগুন, লেবু, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। সুনামগঞ্জে শসা ও গাজরের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে; এক সপ্তাহ আগেও ৪০ টাকায় কেনা শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, আর ৫০ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। নওগাঁর সাপাহারেও একই চিত্র, সেখানে ৬০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, শসা ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। পাবনার চাটমোহরে বেগুনের কেজি ৯০ টাকা ছুঁয়েছে, আর লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, যা ক্রেতাদের চোখে জল আনছে। কাঁচামরিচের ঝাঁজও বেড়েছে, বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১২-১৩ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১৩০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও হাড়সহ ৭৫০ টাকা এবং হাড় ছাড়া ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাটমোহরের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, খামার থেকে সরবরাহ কম থাকায় এবং বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। রুই মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, টেংরা ৪০০-৭০০ টাকা এবং তেড়া বাইম ৪০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবনার চাটমোহরে চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা, শিং মাছ ৮০০ টাকা এবং নদী ও চলনবিলের আইর, গুজা, বাইন, গুচি, মাগুর মাছ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। রমজান শুরুর তিন দিন আগেও প্রতি লিটার দুধ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১০৫-১১০ টাকায় এবং হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুদি দোকানে ছোলা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বেসন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনি ১০৫ টাকা, প্যাকেট আটা (২ কেজি) ১১০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা (২ কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রমজানের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও প্রকারভেদে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত মিলছে বাজারে।

বাজার করতে আসা ক্রেতারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সুনামগঞ্জের সিরাজ নামের একজন ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহ আগে এর চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য কিনেছি। রমজান মাস এলেই দাম বাড়ে, এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।” চাটমোহরের মোহাম্মদ আলীও একই কথা বলেন, “রোজার আগে যেসব নিত্যপণ্যের দাম ছিল ১০ টাকা, তা এখন দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন সমস্যা, চাহিদা বৃদ্ধি এবং আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সুনামগঞ্জের এক পাইকারি সবজি বিক্রেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে দাম কিছুটা কমতে পারে এবং পণ্যের দাম আর বাড়বে না। চাটমোহরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও জানান, রমজানে বাজার কিছুটা ওঠানামা করে, তবে তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপরতা শুরু করেছে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুসারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রমজানকে সামনে রেখে প্রতিদিনই তদারকি করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয়েই জানিয়েছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছেন এবং ভোক্তা পর্যায়ে কোনো পণ্যের মূল্য বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা বাজার বণিক সমিতি ও সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

রমজানের শুরুতেই বাজার বেসামাল: চড়া দামে দিশাহারা ক্রেতা, সর্বত্রই ঊর্ধ্বগতি

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাস শুরুর প্রথম দিন থেকেই দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। প্রায় প্রতিটি পণ্যের দামই চড়া। এতে সাধারণ ক্রেতা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত রোজাদাররা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অনেক পণ্যের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া খবরে এই চিত্র উঠে এসেছে।

ইফতারের অপরিহার্য শসা, বেগুন, লেবু, কাঁচামরিচসহ প্রায় সব ধরনের সবজির দাম এখন আকাশছোঁয়া। সুনামগঞ্জে শসা ও গাজরের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে; এক সপ্তাহ আগেও ৪০ টাকায় কেনা শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, আর ৫০ টাকার গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে। নওগাঁর সাপাহারেও একই চিত্র, সেখানে ৬০ টাকার বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, শসা ৬০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, এবং লেবু প্রতি হালি ৩০ টাকা থেকে বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়। পাবনার চাটমোহরে বেগুনের কেজি ৯০ টাকা ছুঁয়েছে, আর লেবু বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, যা ক্রেতাদের চোখে জল আনছে। কাঁচামরিচের ঝাঁজও বেড়েছে, বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। দেশি পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ১২-১৩ টাকা বেড়ে ৫৫-৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রসুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে দেশি রসুন ১৩০ টাকা এবং চায়না রসুন ১৭০-১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আদার দামও বেড়ে ১৩০-১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

মাংসের বাজারেও ক্রেতাদের পকেটে টান পড়ছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা এবং দেশি মুরগি ৬০০-৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও হাড়সহ ৭৫০ টাকা এবং হাড় ছাড়া ৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চাটমোহরের এক মুরগি বিক্রেতা জানান, খামার থেকে সরবরাহ কম থাকায় এবং বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

মাছের বাজারেও একই চিত্র। রুই মাছ ৩০০-৩৫০ টাকা, পাবদা ৪০০-৬০০ টাকা, পাঙাশ ২০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি শিং মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, টেংরা ৪০০-৭০০ টাকা এবং তেড়া বাইম ৪০০-৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাবনার চাটমোহরে চিংড়ি মাছ ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০০ টাকা, শিং মাছ ৮০০ টাকা এবং নদী ও চলনবিলের আইর, গুজা, বাইন, গুচি, মাগুর মাছ ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যান্য নিত্যপণ্যের মধ্যে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে দুধের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে। রমজান শুরুর তিন দিন আগেও প্রতি লিটার দুধ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১০৫-১১০ টাকায় এবং হাঁসের ডিম প্রতি হালি ৬৫-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুদি দোকানে ছোলা ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বেসন ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা চিনি ১০৫ টাকা, প্যাকেট আটা (২ কেজি) ১১০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা (২ কেজি) ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া রমজানের অন্যতম অনুসঙ্গ খেজুরের দামও প্রকারভেদে ৪০-৫০ টাকা বেড়ে ২৪০-২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সর্বোচ্চ ৩০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত মিলছে বাজারে।

বাজার করতে আসা ক্রেতারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। সুনামগঞ্জের সিরাজ নামের একজন ক্রেতা বলেন, “এক সপ্তাহ আগে এর চেয়ে অর্ধেক দামে পণ্য কিনেছি। রমজান মাস এলেই দাম বাড়ে, এ বিষয়ে সরকারের নজরদারি বাড়াতে হবে।” চাটমোহরের মোহাম্মদ আলীও একই কথা বলেন, “রোজার আগে যেসব নিত্যপণ্যের দাম ছিল ১০ টাকা, তা এখন দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।”

ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন সমস্যা, চাহিদা বৃদ্ধি এবং আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচসহ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। সুনামগঞ্জের এক পাইকারি সবজি বিক্রেতা আশা প্রকাশ করে বলেন, সামনের দিনগুলোতে দাম কিছুটা কমতে পারে এবং পণ্যের দাম আর বাড়বে না। চাটমোহরের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতিও জানান, রমজানে বাজার কিছুটা ওঠানামা করে, তবে তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন।

এদিকে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তৎপরতা শুরু করেছে। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুসারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং রমজানকে সামনে রেখে প্রতিদিনই তদারকি করা হবে। কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয়েই জানিয়েছেন, রমজানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে তারা কাজ করছেন এবং ভোক্তা পর্যায়ে কোনো পণ্যের মূল্য বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা বাজার বণিক সমিতি ও সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।