চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বড় চমকের নাম জিম্বাবুয়ে। অস্ট্রেলিয়ার মতো ক্রিকেট পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে সুপার এইটের টিকিট নিশ্চিত করেছে সিকান্দার রাজার দল। ক্রিকেটের প্রতিষ্ঠিত সাতটি পরাশক্তির ভিড়ে জিম্বাবুয়ের এই উত্থান টুর্নামেন্টে নতুন এক রোমাঞ্চের জন্ম দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর পাশে জিম্বাবুয়ে এখন এক অপ্রতিরোধ্য নাম।
বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ের এই রূপকথার নায়কের নাম ব্রায়ান বেনেট। ২২ বছর বয়সি এই তরুণ ক্রিকেটার মাঠের পারফরম্যান্সে যতটা উজ্জ্বল, ব্যক্তিত্বে ততটাই শান্ত। বড় ইনিংস খেললেও বাড়তি উল্লাসে না মেতে দলকে জেতানোকেই নিজের মূল লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তার ধারাবাহিকতা জিম্বাবুয়েকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৮ বলে অপরাজিত ৬৩ রানের ইনিংসটি দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে।
বেনেটের ব্যাটিং পরিসংখ্যান যেকোনো ব্যাটারের জন্যই ঈর্ষণীয়। ওমানের বিপক্ষে অপরাজিত ৪৮ এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হার না মানা ৬৪ রানের ইনিংস খেলে তিনি এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে আউট হননি। ফলে সর্বোচ্চ সংগ্রাহকের তালিকায় সবার উপরে না থাকলেও ব্যাটিং গড়ের হিসাবে তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে। গাণিতিক ভাষায় তার ব্যাটিং গড় এখন পর্যন্ত ‘অসীম’।
শুধুমাত্র ব্যাটিং নয়, ফিল্ডিংয়েও নিজের জাত চিনিয়েছেন বেনেট। ওমানের বিপক্ষে বাউন্ডারি লাইনে উড়ন্ত অবস্থায় তার অবিশ্বাস্য ক্যাচটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সেই ক্যাচ দেখে আইসল্যান্ড ক্রিকেট রসিকতা করে লিখেছে, ‘সে তো উড়তেও পারে, আবার ব্যাটও করতে পারে।’
সুপার এইটের মতো কঠিন মঞ্চে বেনেটের এই ফর্ম জিম্বাবুয়ের জন্য বড় আত্মবিশ্বাস। তার পাশাপাশি সিকান্দার রাজা ও ব্লেজিং মুজারাবানির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কার্যকর উপস্থিতি দলটিকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছে। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, বেনেট যদি তার এই ছন্দ ধরে রাখতে পারেন, তবে নকআউট পর্বেও জিম্বাবুয়ে বড় কোনো অঘটন ঘটিয়ে দিতে পারে। টুর্নামেন্টে বেনেট যেমন অপরাজিত আছেন, জিম্বাবুয়েও তেমন অপরাজেয় যাত্রা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর।
রিপোর্টারের নাম 

























