বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসির যেকোনো বড় আসর মানেই ‘হট ফেভারিট’ হিসেবে ভারতের নাম আসা। তবে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বড় কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জিততে না পারার আক্ষেপ কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে টিম ইন্ডিয়াকে। চলমান বিশ্বকাপে টিকে থাকা এবং শেষ পর্যন্ত ট্রফি ঘরে তোলা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে এখন শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ভক্তদের মনে একটাই প্রশ্ন—ভারত কি পারবে তাদের দীর্ঘদিনের শিরোপা খরা কাটিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে?
দলের শক্তির বিচারে ভারত বরাবরের মতোই অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ। ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞ রোহিত শর্মা এবং বিরাট কোহলির উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে বড় ম্যাচে কোহলির ব্যাট জ্বলে ওঠার রেকর্ড ভক্তদের আশাবাদী করে তোলে। পাশাপাশি মিডল অর্ডারে টি-টোয়েন্টি স্পেশালিস্টদের উপস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। তবে বড় আসরে ভারতের মূল দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে নক-আউট পর্বের স্নায়ুচাপ সামলানো। গ্রুপ পর্বে দাপট দেখালেও সেমিফাইনাল বা ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে খেই হারিয়ে ফেলার পুরোনো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়াই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।
বোলিং বিভাগে জাসপ্রিত বুমরাহর আক্রমণাত্মক বোলিং ভারতের জন্য বড় স্বস্তির খবর। ডেথ ওভারে তার নিখুঁত ইয়র্কার এবং গতির বৈচিত্র্য প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ। স্পিন বিভাগেও ভারতের যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে, যা মাঝের ওভারগুলোতে রান আটকে রাখার পাশাপাশি উইকেট তুলে নিতে সক্ষম। তবে টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে শুধু ব্যক্তিগত নৈপুণ্য নয়, বরং সম্মিলিত দলীয় প্রচেষ্টার ওপর জোর দিতে হবে। বিশেষ করে চাপের মুখে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা বজায় রাখা জরুরি।
প্রতিপক্ষ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড বা অন্যান্য শক্তিশালী দলগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা ভারতের জন্য সহজ হবে না। কন্ডিশনের সাথে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া এবং সঠিক একাদশ নির্বাচনই নির্ধারণ করবে ভারতের ভাগ্য। ক্রিকেট বোদ্ধাদের মতে, ভারত যদি তাদের স্নায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণ করে স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলতে পারে, তবে এবার তাদের হাত খালি ফিরতে হবে না। কোটি ভক্তের প্রত্যাশা ছাপিয়ে মাঠের লড়াইয়ে রোহিত বাহিনী কতটা অবিচল থাকতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
রিপোর্টারের নাম 





















