পবিত্র রমজানে দিনভর রোজা রাখার পর ইফতারে এক গ্লাস ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর পানীয় শরীরের সব ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি আনে। বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের ফলে প্রকৃতিতে কিছুটা গরম অনুভূত হচ্ছে, যা রোজাদারদের শরীরে পানিশূন্যতা ও অবসাদ তৈরি করতে পারে। এই অবস্থায় শরীরকে ভেতর থেকে সতেজ ও হাইড্রেটেড রাখতে প্রাকৃতিক পানীয়র কোনো বিকল্প নেই। তবে ইফতারের টেবিলে ডাবের পানি নাকি আখের রস—কোনটি বেছে নেওয়া বেশি উপকারী, তা নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধাদ্বন্দ রয়েছে।
আখের রসের গুণাগুণ
প্রাকৃতিক শক্তির উৎস হিসেবে আখের রস অত্যন্ত কার্যকর। এটি শরীরে দ্রুত গ্লুকোজের সরবরাহ নিশ্চিত করে তাৎক্ষণিক শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। আখের রসে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখে এবং শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে দেয়। এছাড়া তীব্র গরমে শরীর শীতল রাখতে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতেও আখের রস বেশ উপকারী। তবে এতে উচ্চমাত্রায় প্রাকৃতিক চিনি থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি পানে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।
ডাবের পানির উপকারিতা
অন্যদিকে, ডাবের পানি হলো প্রাকৃতিক ইলেক্ট্রোলাইটের ভাণ্ডার। দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার ফলে শরীরে যে খনিজ লবণের ঘাটতি তৈরি হয়, তা পূরণে ডাবের পানি অনন্য। এটি কেবল পানিশূন্যতাই দূর করে না, বরং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে যাদের অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ডাবের পানি অত্যন্ত আরামদায়ক।
হজম ও স্বস্তি
সারাদিন পেট খালি থাকার পর ইফতারে ভারী কিছু খেলে অনেকেরই হজমে সমস্যা বা পেট ফাঁপার মতো অস্বস্তি দেখা দেয়। আখের রস কিছুটা গুরুপাক হওয়ায় অতিরিক্ত পানে পেটে অস্বস্তি হতে পারে। বিপরীতে, ডাবের পানি অত্যন্ত হালকা এবং সহজপাচ্য। ফলে ইফতারের শুরুতে ডাবের পানি পান করলে পাকস্থলী শান্ত থাকে এবং হজমপ্রক্রিয়া সহজ হয়।
কোনটি আপনার জন্য সেরা?
পুষ্টিবিদদের মতে, দুটি পানীয়ই নিজ নিজ গুণে সমৃদ্ধ। তবে আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করেই পানীয় নির্বাচন করা উচিত। যদি ইফতারের পর আপনি খুব বেশি দুর্বল বোধ করেন এবং তাৎক্ষণিক শক্তির প্রয়োজন হয়, তবে আখের রস চমৎকার কাজ করবে। কিন্তু শরীরকে পুরোপুরি হাইড্রেটেড রাখতে এবং হজমের সমস্যা এড়াতে ডাবের পানি বেশি কার্যকর। বিশেষ করে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য ডাবের পানি একটি নিরাপদ ও আদর্শ পানীয়। তাই সুস্থতা বজায় রেখে তৃষ্ণা মেটাতে ব্যক্তিগত প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক প্রাকৃতিক পানীয়টি বেছে নিন।
রিপোর্টারের নাম 






















