ঢাকা ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক বিমান এমডি শফিকুর, স্বীকারোক্তি সুফিয়ার

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীররে আদলাত এই আদেশ দেন। একই মামলায় অপর আসামি গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও, সাবেক এমডি শফিকুর রহমান তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বাদিপক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে শুক্রবার শফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী সুফিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। সেখানে আসামি শফিকুর রহমান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, অপর আসামি সুফিয়া বেগম নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত দু’জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুরের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিথী এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান যে ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে প্রয়োজন। এরপর মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে শফিকুরের বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়ের বাবা গোলাম মোস্তফা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর থেকে আসামিরা মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা মেয়েকে নিতে গেলে দেখেন, তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোস্তফা তার মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান, বিথী এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করত। তারা খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাঠের রাজা হলেও যে অপূর্ণতা আজও পোড়ায় মেসিকে

শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন: রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক বিমান এমডি শফিকুর, স্বীকারোক্তি সুফিয়ার

আপডেট সময় : ০৫:২১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১ বছর বয়সী এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীররে আদলাত এই আদেশ দেন। একই মামলায় অপর আসামি গৃহকর্মী সুফিয়া বেগম আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও, সাবেক এমডি শফিকুর রহমান তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

বাদিপক্ষের আইনজীবী এস এম পিয়ারুল ইসলাম নাসিম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ড শেষে শুক্রবার শফিকুর রহমান ও গৃহকর্মী সুফিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তাদের স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তারা প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিচারকের খাসকামরায় নেওয়া হয়। সেখানে আসামি শফিকুর রহমান দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে অস্বীকৃতি জানালেও, অপর আসামি সুফিয়া বেগম নিজের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। পরে আদালত দু’জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি এই মামলায় শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী বিথীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত শফিকুরের পাঁচ দিন এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই দিনে গৃহকর্মী রুপালি খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছিল। রিমান্ড শেষে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রুপালিকে কারাগারে পাঠানো হয়। বিথী এখনো রিমান্ডে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান যে ওই বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য ছোট মেয়ে প্রয়োজন। এরপর মোস্তফা গত বছরের জুন মাসে তার মেয়েকে শফিকুরের বাসায় কাজে দেন। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর মেয়ের বাবা গোলাম মোস্তফা তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন। এরপর থেকে আসামিরা মেয়েটিকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।

গত ৩১ জানুয়ারি বিথী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, তার মেয়ে অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে গোলাম মোস্তফা মেয়েকে নিতে গেলে দেখেন, তার দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম এবং সে ভালোভাবে কথাও বলতে পারছে না। বিথীকে এর কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে মোস্তফা তার মেয়েকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মেয়ে জানায়, গত ২ নভেম্বর তার বাবা দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান, বিথী এবং অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাকে মারপিট করত। তারা খুন্তি আগুনে গরম করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় গত ১ ফেব্রুয়ারি হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।