ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের হার্ডলাইন: বাজার তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান ও বহুমুখী উদ্যোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। দেশজুড়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে একে মুনাফা লাভের মাস হিসেবে গণ্য না করে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নতুন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে এবং এটি সর্বজনীনভাবে বিতরণ করা হবে। তবে বিদ্যমান অন্যান্য ভাতা ও কার্ড কার্যক্রমও এর পাশাপাশি চলমান থাকবে।

এদিকে, অসাধু মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণের সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রপ্তানি খাত সম্প্রসারণই হবে মন্ত্রণালয়ের মূল অগ্রাধিকার।

সরকারের এমন কঠোর বার্তার পর সারা দেশে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ক্রয় রসিদ ও মূল্যতালিকা না থাকায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক নিজে বাজার পরিদর্শন করে পণ্যের সরবরাহ ও দাম পর্যবেক্ষণ করেছেন। নীলফামারীতেও জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বড় বাজারে ব্যাপক তদারকি চালানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিম্নআয়ের মানুষের প্রোটিন চাহিদা মেটাতে সরকার ১০ লাখ পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস বিক্রির বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বলেন, জনগণের সেবা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে টিসিবির চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ভোজ্যতেল ১১৫ টাকা লিটার এবং ছোলা ও খেজুর যথাক্রমে ৬০ ও ১৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, সরকারের এই নজরদারি ও পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজান অতিবাহিত করতে পারবে। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। ব্যবসায়িক নেতারা আশা করছেন, রমজানের শুরুর দিকের বাড়তি চাহিদা কয়েক দিনের মধ্যেই কমে আসবে, ফলে দাম আরও স্থিতিশীল হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভাবের তাড়নায় চা বিক্রেতার মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চিত

রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের হার্ডলাইন: বাজার তদারকিতে সাঁড়াশি অভিযান ও বহুমুখী উদ্যোগ

আপডেট সময় : ১২:২৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে নতুন সরকার। দেশজুড়ে বাজার মনিটরিং জোরদার করার পাশাপাশি অসাধু ব্যবসায়ীদের রুখতে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কার্যদিবসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যবসায়ীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করে একে মুনাফা লাভের মাস হিসেবে গণ্য না করে পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে হবে।

বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পরিকল্পিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করবে। সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, নতুন এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হবে এবং এটি সর্বজনীনভাবে বিতরণ করা হবে। তবে বিদ্যমান অন্যান্য ভাতা ও কার্ড কার্যক্রমও এর পাশাপাশি চলমান থাকবে।

এদিকে, অসাধু মজুতদার ও বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। অন্যদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সচিবালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়ে বলেন, জনগণের সময় নষ্ট করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি জানান, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখার পাশাপাশি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রপ্তানি খাত সম্প্রসারণই হবে মন্ত্রণালয়ের মূল অগ্রাধিকার।

সরকারের এমন কঠোর বার্তার পর সারা দেশে মাঠপর্যায়ে তৎপরতা বেড়েছে। রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ক্রয় রসিদ ও মূল্যতালিকা না থাকায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। হবিগঞ্জে জেলা প্রশাসক নিজে বাজার পরিদর্শন করে পণ্যের সরবরাহ ও দাম পর্যবেক্ষণ করেছেন। নীলফামারীতেও জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বড় বাজারে ব্যাপক তদারকি চালানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম, পিরোজপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

নিম্নআয়ের মানুষের প্রোটিন চাহিদা মেটাতে সরকার ১০ লাখ পরিবারের জন্য সুলভমূল্যে দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস বিক্রির বিশেষ কর্মসূচি শুরু করেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করে বলেন, জনগণের সেবা করাই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি টিসিবির মাধ্যমে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা ও খেজুর সাশ্রয়ী মূল্যে সারা দেশে ট্রাকসেলের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। বর্তমানে টিসিবির চিনি ৮০ টাকা, মসুর ডাল ৭০ টাকা, ভোজ্যতেল ১১৫ টাকা লিটার এবং ছোলা ও খেজুর যথাক্রমে ৬০ ও ১৬০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান বাজারে পেঁয়াজসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত সরকারের আমলের তুলনায় বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা তুলনামূলক স্থিতিশীল। কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) মতে, সরকারের এই নজরদারি ও পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে রমজান অতিবাহিত করতে পারবে। এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে যে, দেশে পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, তবে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। ব্যবসায়িক নেতারা আশা করছেন, রমজানের শুরুর দিকের বাড়তি চাহিদা কয়েক দিনের মধ্যেই কমে আসবে, ফলে দাম আরও স্থিতিশীল হবে।