প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের একটি মামলায় চিত্রনায়িকা রুবিনা আক্তার নিঝুম, তার স্বামী মামুনুর রশীদ রাহুল, দেবর নান্নু মিঞা ও ননদ মহিমা বিবির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিলরুবা আফরোজ তিথির আদালত এই আদেশ দেন। সমন পেয়েও নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী কায়েশ আহমেদ অর্ণব বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত ২৯ জানুয়ারি নায়িকা রুবিনা নিঝুম, তার স্বামী এবং ভাই-বোনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল। আদালত আসামিদের ১৯ ফেব্রুয়ারি হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন। কিন্তু ওইদিন তারা আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
মামলার বাদী সুরভী বেগমের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা তার পূর্ব পরিচিত ছিলেন। রুবিনা নিঝুম ও রাহুল বিভিন্ন সময়ে সুরভী বেগমের কাছ থেকে টাকা ধার নিয়ে সময়মতো ফেরত দিয়ে তার আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেন। এই বিশ্বস্ততার সুযোগ নিয়ে ২০২০ সালের ১ অক্টোবর রুবিনা নিঝুম ও রাহুল সুরভীর কাছে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ধার চান।
সুরভী বেগম তাদের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ১১ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দফায় মোট সাড়ে ১২ লাখ টাকা দেন। দুই মাসের মধ্যে এই টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে একটি চুক্তিনামা স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, রাহুল টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে বা তার মৃত্যু হলে তার ভাই নান্নু মিঞা এই টাকা ফেরত দেবেন বলে উল্লেখ করা হয়।
এদিকে, গত বছর সুরভী বেগম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার আর্থিক সংকট দেখা দেয়। জরুরি ভিত্তিতে টাকার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি গত বছরের ১ মে আসামিদের কাছে টাকা ফেরত চান। কিন্তু রুবিনা নিঝুম ও রাহুল টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন। এরপর গত ২২ সেপ্টেম্বর সুরভী বেগম রুবিনা নিঝুম ও রাহুলের রামপুরার বনশ্রীস্থ বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তারা টাকা অস্বীকার করে উল্টো তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনায় সুরভী বেগম রামপুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























