ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জিয়াউল ‘সিরিয়াল কিলার’, পদোন্নতির বিপক্ষে ছিলাম: সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক সাক্ষ্য

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, জিয়াউল আহসানের পদোন্নতির পক্ষে তিনি ছিলেন না, বরং এর বিরোধিতা করেছিলেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম ও খুনের একটি মামলায় জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এর আগে তিনি এই আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক (অব.) জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করার সময় জানতে চান, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন ২০১২-১৫ সালের সময়ে জিয়াউল আহসান কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন। জবাবে ইকবাল করিম জানান, জিয়াউল আহসান ওই সময়ে একটি পদোন্নতি পেয়েছিলেন, যা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে।

আরেক প্রশ্নে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান, পদোন্নতির বিষয়ে কতজন সুপারিশ করেছিলেন। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যই মতামত দিয়েছিলেন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছিলেন।

সাক্ষ্যে ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, তিনি তৎকালীন মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছিলেন যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার এবং তিনি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নন। তিনি মোমেনকে পদোন্নতি সভায় এভাবেই বিষয়টি উপস্থাপন করতে বলেছিলেন। মোমেন সেভাবেই সভায় উপস্থাপন করলেও, অধিকাংশ সদস্য জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। জিয়াউল আহসান স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনও অর্জন করেননি, এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ডও করেননি। এসব কারণে তিনি কোনো অবস্থাতেই কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।

জিয়াউলকে নিয়ে পদোন্নতি সভায় এমন মন্তব্য করায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। এ ধরনের পদায়ন ‘ডাম্পিং পোস্ট’ হিসেবে বিবেচিত, যা অনেক সময় অপমানজনক বলে মনে করা হয়।

জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী টিটো প্রশ্ন করেন, তার সময়ে কোনো পদোন্নতি তার অজান্তে হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, না। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদোন্নতির তালিকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বাক্ষর করেছেন। সুপার চিফ হিসেবে তারেক সিদ্দিকীকে সব সময় মান্য করতেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব সময় মান্য করতাম না।

আইনজীবী আরও প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক তথা শারীরিক সক্ষমতা, কোর্সের ফলাফল, বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদন, পার্সোনাল সার্ভিসের রিপোর্ট ও এমআই ক্লিয়ারেন্স দেখে বিবেচনা করা হয়, একথা সত্য কি না। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, হ্যাঁ, তবে সব সময় তা মানা হয় না।

জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদর্শিক মিল থাকলেও রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত কওমি অঙ্গন

জিয়াউল ‘সিরিয়াল কিলার’, পদোন্নতির বিপক্ষে ছিলাম: সাবেক সেনাপ্রধানের বিস্ফোরক সাক্ষ্য

আপডেট সময় : ০৬:১৪:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শতাধিক মানুষকে গুম ও খুনের অভিযোগে অভিযুক্ত মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে ‘সিরিয়াল কিলার’ আখ্যা দিয়েছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। তিনি বলেছেন, জিয়াউল আহসানের পদোন্নতির পক্ষে তিনি ছিলেন না, বরং এর বিরোধিতা করেছিলেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ গুম ও খুনের একটি মামলায় জিয়াউল আহসানের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। এর আগে তিনি এই আসামির বিরুদ্ধে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক (অব.) জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো সাবেক সেনাপ্রধান ইকবাল করিম ভূঁইয়াকে জেরা করার সময় জানতে চান, তিনি সেনাপ্রধান থাকাকালীন ২০১২-১৫ সালের সময়ে জিয়াউল আহসান কয়টি পদোন্নতি পেয়েছেন। জবাবে ইকবাল করিম জানান, জিয়াউল আহসান ওই সময়ে একটি পদোন্নতি পেয়েছিলেন, যা ছিল লেফটেন্যান্ট কর্নেল থেকে কর্নেল পদে।

আরেক প্রশ্নে আসামিপক্ষের আইনজীবী জানতে চান, পদোন্নতির বিষয়ে কতজন সুপারিশ করেছিলেন। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, বোর্ডের অধিকাংশ সদস্যই মতামত দিয়েছিলেন এবং তাদের মতামতের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে পদোন্নতি দেওয়া হয়। তবে তিনি এ-ও উল্লেখ করেন যে, বোর্ডের অনেক সদস্যই নিজেদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ চিন্তা করে মতামত দিয়েছিলেন।

সাক্ষ্যে ইকবাল করিম ভূঁইয়া আরও বলেন, তিনি তৎকালীন মেজর জেনারেল মোমেনকে ডেকে বলেছিলেন যে, জিয়াউল আহসান একজন সিরিয়াল কিলার এবং তিনি তার পদোন্নতি দেওয়ার পক্ষে নন। তিনি মোমেনকে পদোন্নতি সভায় এভাবেই বিষয়টি উপস্থাপন করতে বলেছিলেন। মোমেন সেভাবেই সভায় উপস্থাপন করলেও, অধিকাংশ সদস্য জিয়াউলকে ভালো কর্মকর্তা হিসেবে অভিহিত করে পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেন।

সাবেক সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, জিয়াউল আহসান কখনোই ভালো কর্মকর্তা ছিলেন না। সেনাবাহিনীতে সচরাচর স্টাফ কলেজ করা ছাড়া কাউকে লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয় না। জিয়াউল আহসান স্টাফ কলেজ করার যোগ্যতা কখনও অর্জন করেননি, এমনকি স্টাফ কলেজও করেননি। এছাড়া লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে তিনি কোনো ব্যাটালিয়ন কমান্ডও করেননি। এসব কারণে তিনি কোনো অবস্থাতেই কর্নেল পদে পদোন্নতির যোগ্য ছিলেন না।

জিয়াউলকে নিয়ে পদোন্নতি সভায় এমন মন্তব্য করায় জেনারেল মোমেনকে কিছুদিন পর সেনাবাহিনী থেকে সরিয়ে বাহরাইনের রাষ্ট্রদূত করা হয়। তাকে প্রেষণে রাষ্ট্রদূত করা হয়েছিল। এ ধরনের পদায়ন ‘ডাম্পিং পোস্ট’ হিসেবে বিবেচিত, যা অনেক সময় অপমানজনক বলে মনে করা হয়।

জেরার একপর্যায়ে আইনজীবী টিটো প্রশ্ন করেন, তার সময়ে কোনো পদোন্নতি তার অজান্তে হয়েছে কি না। জবাবে তিনি বলেন, না। তবে অনেক ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত পদোন্নতির তালিকায় অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বাক্ষর করেছেন। সুপার চিফ হিসেবে তারেক সিদ্দিকীকে সব সময় মান্য করতেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সব সময় মান্য করতাম না।

আইনজীবী আরও প্রশ্ন করেন, সেনাবাহিনীর পদোন্নতির ক্ষেত্রে ট্রেডমার্ক তথা শারীরিক সক্ষমতা, কোর্সের ফলাফল, বাৎসরিক গোপন প্রতিবেদন, পার্সোনাল সার্ভিসের রিপোর্ট ও এমআই ক্লিয়ারেন্স দেখে বিবেচনা করা হয়, একথা সত্য কি না। জবাবে ইকবাল করিম বলেন, হ্যাঁ, তবে সব সময় তা মানা হয় না।

জেরা অসম্পূর্ণ থাকায় ট্রাইব্যুনাল পরবর্তী শুনানির জন্য ২৩ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করে।