ঢাকা ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ: জয়-পলকের বিচার শুরু

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। এ মামলায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে এদিন বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সকালে কারাবন্দী জুনায়েদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য গত ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য ছিল। ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।

গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তার পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই তিনি তার মক্কেলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। এরপর জয়ের আইনজীবী মুনজুর আলমও তার বক্তব্য তুলে ধরে জয়কে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।

তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে গাজী এমএইচ তামীম আদালতে বলেন, প্রসিকিউশন যথাযথ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এবং মামলার বিচারের সময় তা প্রমাণ করা হবে। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি মূল অভিযোগ হলো:

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জয়-এর কথামতো জুনায়েদ আহমেদ পলক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট করে উসকানি দেন। এর ফলশ্রুতিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। একইসঙ্গে তারা হত্যায় সহায়তা করেন। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন প্রাণ হারান।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছর বয়সী জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনসহ ৩৪ জন উত্তরায় প্রাণ হারান। আসামিরা এই ৩৪ হত্যায় সহায়তা করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আদর্শিক মিল থাকলেও রাজনৈতিক মেরুকরণে বিভক্ত কওমি অঙ্গন

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ: জয়-পলকের বিচার শুরু

আপডেট সময় : ০২:৫৮:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার ছেলে ও তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিচার শুরু হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার প্রসিকিউশন পক্ষ তাদের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। এ মামলায় আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর এজলাসে এদিন বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। সকালে কারাবন্দী জুনায়েদ আহমেদ পলককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এর আগে গত ২১ জানুয়ারি জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য গত ১১ জানুয়ারি দিন ধার্য ছিল। ওইদিন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান।

গত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগ গঠনের বিষয়ে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পলকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ শুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এনেছে তার পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। তাই তিনি তার মক্কেলকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। এরপর জয়ের আইনজীবী মুনজুর আলমও তার বক্তব্য তুলে ধরে জয়কে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেন।

তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে গাজী এমএইচ তামীম আদালতে বলেন, প্রসিকিউশন যথাযথ তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে এবং মামলার বিচারের সময় তা প্রমাণ করা হবে। তিনি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছিল।

আসামিদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি মূল অভিযোগ হলো:

প্রথম অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত জয়-এর কথামতো জুনায়েদ আহমেদ পলক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পরপর তিনটি পোস্ট করে উসকানি দেন। এর ফলশ্রুতিতে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র বাহিনী হামলা চালায়।

দ্বিতীয় অভিযোগ অনুযায়ী, উভয়ের পরামর্শক্রমে ইন্টারনেট বন্ধ করে মারণাস্ত্র ব্যবহারে উসকানি ও প্ররোচনা দেন জয় ও পলক। একইসঙ্গে তারা হত্যায় সহায়তা করেন। এতে পুলিশ ও দলীয় সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলায় রাসেল, মোসলেহ উদ্দিনসহ ২৮ জন প্রাণ হারান।

তৃতীয় অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের উসকানি ও প্ররোচনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলায় ছয় বছর বয়সী জাবির ইবরাহিম, সাগর হোসেন, সুজনসহ ৩৪ জন উত্তরায় প্রাণ হারান। আসামিরা এই ৩৪ হত্যায় সহায়তা করেন।