জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এক আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। মামলার অন্যতম সাক্ষী শরীফ ওসমান হাদি বর্তমানে মৃত (শহীদ) হওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তার (আইও) কাছে দেওয়া তার জবানবন্দিকে সরাসরি সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণের আরজি জানানো হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই আবেদনটি দাখিল করা হয়। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামীম বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, শরীফ ওসমান হাদি আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে বিস্তারিত জবানবন্দি দিয়েছিলেন। যেহেতু তিনি পরবর্তীকালে শহীদ হয়েছেন, তাই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার সেই বক্তব্যকে সাক্ষ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন—অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এর আগে, গত মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য এবং প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়। গত ২২ জানুয়ারি ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে আদালত। ওই দিনই ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য ১৭ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।
মামলার অভিযুক্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান। জুলাই বিপ্লবের সময় সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধে এই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগে বিচার কাজ চলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























