ঢাকা ০৩:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর বয়ান এবং রাজনৈতিক সমঝোতা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

## বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাজন ও রাজনৈতিক সমঝোতার অন্বেষণ

ঢাকা: বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ‘প্রগতিশীল’ এবং ‘অসাম্প্রদায়িক’ শব্দ দুটি প্রায়শই কোনো গভীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই দুটি ধারণার সরলীকৃত প্রয়োগ, বিশেষ করে ইসলামবিদ্বেষকে প্রগতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িকতার নির্ণায়ক হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা সমাজে বিভাজন তৈরি করছে এবং যুক্তিবাদী আলোচনার পথ রুদ্ধ করছে। এই প্রেক্ষাপটে, সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংঘাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য ও ইসলামবিদ্বেষের শেকড়:

দেশের একটি অংশ, যারা নিজেদের ‘সেক্যুলার’ বলে দাবি করে, তারা তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইসলামকে সমাজের মূলধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে। তাদের এই ধারণার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে তারা সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্যের ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করে। যদিও মানবাধিকার লঙ্ঘন একটি গুরুতর বিষয়, তবে এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ন্যায্য বিচার ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ইসলামবিদ্বেষী জ্ঞান-ব্যবস্থা এই দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও এলিট শ্রেণির সঙ্গে মিলেমিশে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। গণমাধ্যমও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে, যেখানে ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের মূল বুদ্ধিজীবী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। পাশ্চাত্য অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন এনজিও ও সুশীল সমাজের ভূমিকাও এই জোটকে শক্তিশালী করছে।

মুসলিম সমাজের বাস্তবতা ও অধিকার:

স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক হীনম্মন্যতা সত্ত্বেও, ইসলাম এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কঠোর চর্চা না থাকলেও, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ হিসেবে ইসলামের প্রভাব অনেক গভীর। কিন্তু সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা সৃষ্ট ইসলামবিদ্বেষ সমাজে হিংসা ও অপরায়ণের রাজনীতিকে উস্কে দিয়েছে। শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এই বিদ্বেষকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

ইসলাম বিশ্বজুড়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রধান উৎস। ‘উম্মাহ’ ধারণা মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে। ‘হারাম-হালাল’ বিধান জীবনযাপন ও মূল্যবোধ নির্ধারণে মুসলমানদের সতর্ক রাখে। ইসলামি শরিয়াহ মুসলমানদের জন্য একটি নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের স্বপ্ন ও রাজনৈতিক প্রকল্প বিনির্মাণ করে। শরিয়াহর মূল লক্ষ্য হলো তৌহিদ প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিছু গুরুতর অপরাধের শাস্তিকে সামনে এনে শরিয়াহকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ ইসলামে নেই। আল্লাহর কর্তৃত্বকে পূর্ণভাবে মেনে নেওয়া ইসলামের একটি মৌলিক বিষয়।

রাজনৈতিক সমঝোতার পথে বাধা ও সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মুসলিম পরিচয়কে লঘু করতে চায়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। মুসলিম পরিচয়কে জাতীয়তার প্রধান উপাদান হিসেবে গ্রহণ এবং রাজনৈতিক এজেন্সির মৌলিক সূত্রে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

বিগত সরকারগুলো সাংস্কৃতিক উপাদান ব্যবহার করে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও পরিচয়কে নিয়ন্ত্রণ করেছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য কিছু মৌলিক অঙ্গীকার প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে সুশাসন, জবাবদিহিতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, ব্যক্তিপূজার বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে জননীতি নির্ধারণ এবং স্বাধীন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক স্লোগান, যেমন ‘আজাদি না গোলামি’ বা ‘ক্ষমতা না জনতা’, জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর মূল অর্থ হলো বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর এই স্লোগানগুলোর রাজনৈতিক মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে। যেসব দল বা ব্যক্তি এসব মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্ম হবে, তাদের নিয়ে একটি বৃহত্তর অ্যালায়েন্স গঠন করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদির তাৎপর্য:

ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার উন্মোচন করেছিলেন। তিনি মুসলিমপ্রধান দেশের রাজনীতির যথার্থ বয়ান নির্মাণে এবং ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা তৈরির জন্য কাজ করছিলেন। তার শাহাদাতের পর লক্ষ লক্ষ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণ তার রাজনৈতিক বয়ান ও পদ্ধতির পক্ষে গণসমর্থন প্রমাণ করে। ওসমান হাদির উত্থান এবং শাহাদাত বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ডিফাইনিং মোমেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাংলাদেশের ইতিহাস ও পরিচয় কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিম শাসন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন এবং ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম-বিরোধী নীতি—এই সবকিছুর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও তার সুরক্ষা বোঝা সম্ভব।

ইসলাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের সীমাবদ্ধতা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি জাতির জন্য আর বহন করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন দেখার বিষয় হলো, তারা এই মৌলিক অঙ্গীকার ও আদর্শের ভিত্তিতে কতটুকু এগিয়ে আসে এবং একটি স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

সেক্যুলার বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীর বয়ান এবং রাজনৈতিক সমঝোতা

আপডেট সময় : ১০:০৬:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

## বাংলাদেশে বুদ্ধিবৃত্তিক বিভাজন ও রাজনৈতিক সমঝোতার অন্বেষণ

ঢাকা: বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক অঙ্গনে ‘প্রগতিশীল’ এবং ‘অসাম্প্রদায়িক’ শব্দ দুটি প্রায়শই কোনো গভীর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই দুটি ধারণার সরলীকৃত প্রয়োগ, বিশেষ করে ইসলামবিদ্বেষকে প্রগতিশীলতা ও অসাম্প্রদায়িকতার নির্ণায়ক হিসেবে গ্রহণ করার প্রবণতা সমাজে বিভাজন তৈরি করছে এবং যুক্তিবাদী আলোচনার পথ রুদ্ধ করছে। এই প্রেক্ষাপটে, সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশের আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের সংঘাত বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য ও ইসলামবিদ্বেষের শেকড়:

দেশের একটি অংশ, যারা নিজেদের ‘সেক্যুলার’ বলে দাবি করে, তারা তাদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী ইসলামকে সমাজের মূলধারার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয় বলে মনে করে। তাদের এই ধারণার পেছনে রয়েছে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে তারা সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত বৈষম্যের ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করে। যদিও মানবাধিকার লঙ্ঘন একটি গুরুতর বিষয়, তবে এটিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ন্যায্য বিচার ও ঐতিহাসিক বিশ্লেষণের পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বব্যাপী ইসলামবিদ্বেষী জ্ঞান-ব্যবস্থা এই দেশের কিছু বুদ্ধিজীবী ও এলিট শ্রেণির সঙ্গে মিলেমিশে একচেটিয়া আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে। গণমাধ্যমও এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে, যেখানে ইসলামবিদ্বেষী ব্যক্তিদের মূল বুদ্ধিজীবী হিসেবে উপস্থাপন করার প্রবণতা দেখা যায়। পাশ্চাত্য অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন এনজিও ও সুশীল সমাজের ভূমিকাও এই জোটকে শক্তিশালী করছে।

মুসলিম সমাজের বাস্তবতা ও অধিকার:

স্বাধীন বাংলাদেশে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাথমিক হীনম্মন্যতা সত্ত্বেও, ইসলাম এ অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রোথিত। ধর্মীয় বিধি-নিষেধের কঠোর চর্চা না থাকলেও, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ হিসেবে ইসলামের প্রভাব অনেক গভীর। কিন্তু সেক্যুলার বুদ্ধিজীবীদের দ্বারা সৃষ্ট ইসলামবিদ্বেষ সমাজে হিংসা ও অপরায়ণের রাজনীতিকে উস্কে দিয়েছে। শাসকশ্রেণি ও রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলোও এই বিদ্বেষকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছে।

ইসলাম বিশ্বজুড়ে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে মূল্যবোধ ও নৈতিকতার প্রধান উৎস। ‘উম্মাহ’ ধারণা মুসলমানদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আকাঙ্ক্ষাকে তুলে ধরে। ‘হারাম-হালাল’ বিধান জীবনযাপন ও মূল্যবোধ নির্ধারণে মুসলমানদের সতর্ক রাখে। ইসলামি শরিয়াহ মুসলমানদের জন্য একটি নৈতিক ভিত্তি তৈরি করে, যার ওপর দাঁড়িয়ে তারা নিজেদের স্বপ্ন ও রাজনৈতিক প্রকল্প বিনির্মাণ করে। শরিয়াহর মূল লক্ষ্য হলো তৌহিদ প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফ ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিছু গুরুতর অপরাধের শাস্তিকে সামনে এনে শরিয়াহকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ ইসলামে নেই। আল্লাহর কর্তৃত্বকে পূর্ণভাবে মেনে নেওয়া ইসলামের একটি মৌলিক বিষয়।

রাজনৈতিক সমঝোতার পথে বাধা ও সম্ভাবনা:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটের মূলে রয়েছে আধিপত্যবাদী সংস্কৃতি, যা সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর মুসলিম পরিচয়কে লঘু করতে চায়। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা জরুরি। মুসলিম পরিচয়কে জাতীয়তার প্রধান উপাদান হিসেবে গ্রহণ এবং রাজনৈতিক এজেন্সির মৌলিক সূত্রে রূপান্তর করা প্রয়োজন।

বিগত সরকারগুলো সাংস্কৃতিক উপাদান ব্যবহার করে মুসলমানদের রাজনৈতিক অধিকার ও পরিচয়কে নিয়ন্ত্রণ করেছে। ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য কিছু মৌলিক অঙ্গীকার প্রয়োজন, যা রাজনৈতিক সমঝোতার পথ প্রশস্ত করবে। এর মধ্যে রয়েছে সুশাসন, জবাবদিহিতা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা, ব্যক্তিপূজার বদলে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, বৃহত্তর জনগণের স্বার্থে জননীতি নির্ধারণ এবং স্বাধীন নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি।

২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক স্লোগান, যেমন ‘আজাদি না গোলামি’ বা ‘ক্ষমতা না জনতা’, জনতার আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এর মূল অর্থ হলো বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিকশিত করা। রাজনৈতিক দলগুলোর এই স্লোগানগুলোর রাজনৈতিক মর্মার্থ উপলব্ধি করতে হবে। যেসব দল বা ব্যক্তি এসব মূল্যবোধ ও অঙ্গীকারের সঙ্গে একাত্ম হবে, তাদের নিয়ে একটি বৃহত্তর অ্যালায়েন্স গঠন করে ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র তৈরির সামাজিক চুক্তি তৈরি করতে হবে।

শহীদ ওসমান হাদির তাৎপর্য:

ওসমান হাদি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন ধারার উন্মোচন করেছিলেন। তিনি মুসলিমপ্রধান দেশের রাজনীতির যথার্থ বয়ান নির্মাণে এবং ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে ইনসাফভিত্তিক রাজনৈতিক ধারা তৈরির জন্য কাজ করছিলেন। তার শাহাদাতের পর লক্ষ লক্ষ মানুষের জানাজায় অংশগ্রহণ তার রাজনৈতিক বয়ান ও পদ্ধতির পক্ষে গণসমর্থন প্রমাণ করে। ওসমান হাদির উত্থান এবং শাহাদাত বাংলাদেশের জন্য একটি ‘ডিফাইনিং মোমেন্ট’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বাংলাদেশের ইতিহাস ও পরিচয় কেবল এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মুসলিম শাসন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, পাকিস্তান আন্দোলন এবং ব্রিটিশ ভারতে মুসলিম-বিরোধী নীতি—এই সবকিছুর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও তার সুরক্ষা বোঝা সম্ভব।

ইসলাম বাদ দিয়ে বাংলাদেশ জাতিরাষ্ট্রের নিরাপত্তা কৌশল নির্ণয় করা সম্ভব নয়। বাঙালি জাতীয়তাবাদ-কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কৌশলের সীমাবদ্ধতা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। তাই একই ভুলের পুনরাবৃত্তি জাতির জন্য আর বহন করা সম্ভব নয়।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এখন দেখার বিষয় হলো, তারা এই মৌলিক অঙ্গীকার ও আদর্শের ভিত্তিতে কতটুকু এগিয়ে আসে এবং একটি স্থিতিশীল ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে ভূমিকা রাখে।