মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১০:৪৫ অপরাহ্ন | ৩০শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | শুক্রবার, ১৪ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

ব্যাংক খাতে বড় ঋণে বড় বিপর্যয়: ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ঋণের ৪৮ শতাংশই এখন খেলাপি

  • হালনাগাদ সময় : ০৯:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

দেশের ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি অংকের ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে; ২০২৪ সালের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং আপডেট সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণের অঙ্ক যত বাড়ছে, খেলাপি হওয়ার প্রবণতাও ততটাই তীব্র হচ্ছে। গত বছরের জুন শেষে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার ছিল ১৬ শতাংশ। তবে ঋণের পরিমাণ ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছালে খেলাপির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৭০ শতাংশে। এছাড়া ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণে ৩৮ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণে ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ খেলাপি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণসীমার মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় সব ধরনের ঋণসীমাতেই খেলাপি হওয়ার হার বেড়েছে। এটি মূলত ব্যাংক খাতের ঋণ পোর্টফোলিওতে ক্রমবর্ধমান চাপের বহিঃপ্রকাশ। বড় করপোরেট ঋণের ক্ষেত্রে এই উচ্চ হার ইঙ্গিত দেয় যে, বড় ঋণগ্রহীতাদের ঋণ মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থায় চরম দুর্বলতা ছিল। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কাও বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিল্প ঋণে এই হার ৩৫ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া নির্মাণ খাতে ২৭ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে ভোক্তা ঋণে খেলাপির হার কিছুটা কম, যা ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, গত বছরের জুন শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বর নাগাদ আরও বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য গোপন করার একটি প্রবণতা ছিল। বর্তমানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তাদের মতে, ঋণের মান যাচাইয়ে কঠোরতা না আনলে ভবিষ্যতে এই হার আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে যখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা বর্তমানে এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

জাকেরকে সঙ্গে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ নাঈমের

30 October 2026

১৪৩১ কেজির বিশালাকার কুমড়া ফলিয়ে কৃষকের বিশ্বরেকর্ড

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

ব্যাংক খাতে বড় ঋণে বড় বিপর্যয়: ৫০ কোটি টাকার ঊর্ধ্বের ঋণের ৪৮ শতাংশই এখন খেলাপি

হালনাগাদ সময় : ০৯:২১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দেশের ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫০ কোটি টাকার বেশি অংকের ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার দাঁড়িয়েছে ৪৮ দশমিক ২০ শতাংশ। মাত্র এক বছরের ব্যবধানে এই চিত্র নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে; ২০২৪ সালের একই সময়ে এই হার ছিল মাত্র ১৭ দশমিক ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং আপডেট সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে এই আশঙ্কাজনক তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঋণের অঙ্ক যত বাড়ছে, খেলাপি হওয়ার প্রবণতাও ততটাই তীব্র হচ্ছে। গত বছরের জুন শেষে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপির হার ছিল ১৬ শতাংশ। তবে ঋণের পরিমাণ ১০ থেকে ২০ কোটি টাকার ঘরে পৌঁছালে খেলাপির হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪৫ দশমিক ৭০ শতাংশে। এছাড়া ২০ থেকে ৩০ কোটি টাকার ঋণে ৩৮ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৪০ কোটি টাকার ঋণে ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ খেলাপি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ৪০ থেকে ৫০ কোটি টাকার ঋণসীমার মধ্যে খেলাপি ঋণের হার ১০ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে লাফিয়ে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মধ্যে প্রায় সব ধরনের ঋণসীমাতেই খেলাপি হওয়ার হার বেড়েছে। এটি মূলত ব্যাংক খাতের ঋণ পোর্টফোলিওতে ক্রমবর্ধমান চাপের বহিঃপ্রকাশ। বড় করপোরেট ঋণের ক্ষেত্রে এই উচ্চ হার ইঙ্গিত দেয় যে, বড় ঋণগ্রহীতাদের ঋণ মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থায় চরম দুর্বলতা ছিল। পাশাপাশি সামষ্টিক অর্থনৈতিক ধাক্কাও বড় ঋণগ্রহীতাদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য খাতে খেলাপি ঋণের হার সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ৪৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। শিল্প ঋণে এই হার ৩৫ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং কৃষি, মৎস্য ও বনায়ন খাতে ৩১ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া নির্মাণ খাতে ২৭ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ২২ দশমিক ৭০ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়ে পড়েছে। তবে তুলনামূলকভাবে ভোক্তা ঋণে খেলাপির হার কিছুটা কম, যা ৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।

সামগ্রিক চিত্রে দেখা যায়, গত বছরের জুন শেষে দেশে মোট খেলাপি ঋণের হার ছিল ৩৪ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বর নাগাদ আরও বেড়ে ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিগত সরকারের আমলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত তথ্য গোপন করার একটি প্রবণতা ছিল। বর্তমানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করায় প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। তাদের মতে, ঋণের মান যাচাইয়ে কঠোরতা না আনলে ভবিষ্যতে এই হার আরও বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে যখন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে, তখন দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা, যা বর্তমানে এক বিশাল বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Share this news as a Photo Card