দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী সংস্থা জাতীয় সংসদে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এই নবগঠিত মন্ত্রিসভায় আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ও স্বনামধন্য বেশ কয়েকজন আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তারা শপথ গ্রহণ করেন। এই ঘটনা আইন অঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, কারণ আইন প্রণেতাদের মধ্যে পেশাদার আইনজীবীদের উপস্থিতি আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া আইনজীবীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, যিনি ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। নেত্রকোনা-১ আসন থেকে বিজয়ী এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পেয়েছেন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবং মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত নিতাই রায় চৌধুরী সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। রাঙামাটি থেকে বিএনপির টিকিটে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে নির্বাচিত তরুণ ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। নাটোর-১ আসনে বিএনপি থেকে নির্বাচিত ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলকে মহিলা, শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া, আইনজীবী শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং ধর্ম ও আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে, বরিশাল-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
উচ্চ আদালত এবং আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, এবারের নির্বাচনে অধস্তন আদালত থেকে উঠে আসা প্রার্থীদের তেমনভাবে সংসদে দেখা যায়নি। অথচ সংসদের মূল কাজ হলো আইন প্রণয়ন। এই প্রেক্ষাপটে, সংসদে আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব তুলনামূলকভাবে আরও বেশি হওয়া উচিত ছিল। তারা আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের প্রায় সব দেশের সংসদেই আইনজীবীদের প্রাধান্য দেখা যায়, যা অনেক ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশেরও বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে চিত্রটি ততটা নয়।
সাম্প্রতিক সময়ে, মনোনয়ন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আইনজীবীরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে অনেকে মনে করেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিকভাবে বেশি শক্তিশালী হওয়াকে দায়ী করা হচ্ছে। ফলে, সংসদ সদস্যদের মূল দায়িত্ব আইন প্রণয়ন হলেও, সংসদে পেশাগতভাবে আইনজীবীর সংখ্যা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যা আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার জন্য একটি উদ্বেগজনক বিষয়। তবে, নবগঠিত মন্ত্রিসভায় একাধিক আইনজীবীর অন্তর্ভুক্তি এই ধারা পরিবর্তনের একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।
রিপোর্টারের নাম 

























