বাংলাদেশে রয়্যাল এনফিল্ডের পথচলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উন্মোচিত হলো নতুন দিগন্ত। ‘দ্য নিউ চ্যাপ্টার বিগিনস’ শীর্ষক এই আয়োজনে ইফাদ মোটরস বাজারে এনেছে নয়টি নতুন রঙের মোটরসাইকেল, যা দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন রূপে তুলে ধরবে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসিবি) অনুষ্ঠিত এই জমকালো অনুষ্ঠানে বাইকারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ঐতিহ্যের ছোঁয়ায় নতুন রঙ:
বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রয়্যাল এনফিল্ড তাদের ক্ল্যাসিক ৩৫০ মডেলের জন্য চারটি বিশেষ রঙ উন্মোচন করেছে। এই রঙগুলো হলো – সুন্দরবন গ্রীন, কুমিল্লা ব্ল্যাক, এম্বার ঢাকা এবং রাজশাহী রেড। প্রতিটি রঙের নামেই বাংলাদেশের নিজস্বতা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের প্রতিফলন ঘটেছে, যা বাইকারদের মনে এক নতুন আবেদন তৈরি করবে।
শুধু ক্ল্যাসিক ৩৫০ নয়, মিটিয়র ৩৫০ মডেলের ফায়ার বল, স্টেলার, অ্যারোরা ও সুপারনোভা – এই চার ধরনের মোটরসাইকেলও এখন পাঁচটি ভিন্ন রঙে পাওয়া যাচ্ছে। এই নতুন সংযোজনগুলো বাইকারদের পছন্দের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
বিশেষ সংস্করণ ও সাশ্রয়ী মূল্যে নতুন সংযোজন:
এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ক্ল্যাসিক ৩৫০ মডেলের ‘বাংলাদেশ অ্যানিভারসারি এডিশন’ বাজারে আনা হয়েছে, যার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪,৪৭,৭০০ টাকা। অন্যদিকে, মিটিয়র ৩৫০ মডেলের চারটি ভিন্ন সংস্করণ – ফায়ার বল, স্টেলার, অ্যারোরা ও সুপারনোভা – পাওয়া যাবে ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ ২৩ হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়াও, বর্ষপূর্তি উপলক্ষে নির্দিষ্টসংখ্যক মোটরসাইকেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা বাইকারদের জন্য এক দারুণ সুযোগ।
রয়্যাল এনফিল্ডের বাংলাদেশে পথচলা:
বাংলাদেশে রয়্যাল এনফিল্ডের বাজারজাতকরণের দায়িত্বে থাকা ইফাদ মোটরস লিমিটেড তাদের এক বছরের পথচলায় ১৪ হাজারের বেশি রাইডারকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। ইফাদ গ্রুপের চেয়ারম্যান ইফতেখার আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান তানভীর আহমেদ, তাসকীন আহমেদ ও তাসফীন আহমেদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রিয়াজুল হক চৌধুরী সহ প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও, বিভিন্ন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক এবং মোটরসাইকেল কমিউনিটির সদস্যরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
ইফাদ গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান তাসকীন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে হাইওয়েতে স্বাচ্ছন্দ্যে ক্রুজিং উপযোগী মোটরসাইকেলের যে ঘাটতি ছিল, তা পূরণ করার লক্ষ্যেই পাঁচ বছরের প্রচেষ্টার পর ২০২৪ সালে রয়্যাল এনফিল্ড ব্র্যান্ডটি বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়েছে।
সাফল্যের ধারা অব্যাহত:
বিশ্বব্যাপী রয়্যাল এনফিল্ড ব্র্যান্ডের বিক্রয় সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য। গত বছর বিশ্বজুড়ে ১০ লক্ষাধিক মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে এবং ৮০টি দেশে তিন হাজারের বেশি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২২টি বিক্রয়কেন্দ্রের মাধ্যমে এই ব্র্যান্ডটি তাদের গ্রাহকদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
মিটিয়র ৩৫০ মডেলে অ্যাসিস্ট্যান্ট স্লিপ ক্লাচ যুক্ত করা হয়েছে, যা রাইডিং অভিজ্ঞতাকে আরও মসৃণ করবে। এছাড়াও, ফায়ার বল সিরিজে প্রথমবারের মতো ডুয়াল চ্যানেল এবিএস ও রিয়ার ডিস্ক ব্রেকিং বৈশিষ্ট্য সংযোজন করা হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্সে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
স্থানীয় উৎপাদন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
ইফাদ মোটরস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আট একর জমির ওপর রয়্যাল এনফিল্ড ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলের সংযোজন কারখানা স্থাপন করেছে। এই কারখানার বছরে ৩০ হাজার মোটরসাইকেল সংযোজনের সক্ষমতা রয়েছে, যেখানে ইঞ্জিন ছাড়া অন্যান্য যন্ত্রাংশ দেশেই সংযোজন করা হয়।
রয়্যাল এনফিল্ড শুধু বাইক বিক্রিই নয়, রাইডারদের নিয়েও বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। রাইড আউট, ডে রাইড সহ নানা ধরনের অনুষ্ঠানে রাইডারদের মধ্যে একাত্মতা তৈরি হয়। এবার দেশের ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন রঙের সংযোজন বাইকারদের পাশাপাশি দেশের সংস্কৃতিকেও তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই নতুন রঙগুলোও বাইকারদের মন জয় করতে সক্ষম হবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির।
রিপোর্টারের নাম 

























