ঢাকা ১১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

কাপ্তাইয়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানা: হাতির আক্রমণে ১০ বছরে ঝরল ১৩ প্রাণ, আতঙ্কে জনজীবন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যপ্রাণীর উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বনের বিশাল এলাকা ছেড়ে হাতি, বানর ও হনুমান এখন নিয়মিত হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যপ্রাণীর অব্যাহত তাণ্ডবে জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি, রামপাহাড়, ওয়াগ্গাছড়া চা বাগান, চিৎমরম মুসলিমপাড়া, কলা বুনিয়া, ব্রিকফিল্ড এবং বিউবো বাক্স হাউজ এলাকায় বন্য হাতির আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নৌবাহিনী সড়ক, সুইডিশ আবাসিক এলাকা, ফরেস্ট কলোনি ও শিল্প এলাকাতেও হাতির দল নিয়মিত তান্ডব চালাচ্ছে। বনবিভাগের পরিসংখ্যান ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। হাতির দল কেবল মানুষের ওপর আক্রমণই করছে না, বরং ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাবাড় করে দিচ্ছে ফসলি জমি।

হাতির পাশাপাশি নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে বানর ও হনুমানের দল। এসব বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে মানুষের সৃজিত বাগান ও ফলদ গাছপালা নষ্ট করছে। বিশেষ করে বরই, কলা, নারিকেল, আতাফল, শিম ও পেয়ারা বাগানগুলো উজাড় করে দিচ্ছে তারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গৃহিণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাঠি হাতে দিনরাত পাহারা দিয়েও এদের ঠেকাতে পারছেন না। শিল্প এলাকার ব্যবসায়ী শাহিন ও জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন জানান, বানর ও হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা ও কোহিনূর এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বনবিভাগের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বন্যপ্রাণী কেন লোকালয়ে আসছে, সে বিষয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসার ওমর ফারুক স্বাধীন জানান, বনের গভীরে এক সময় প্রচুর পশুখাদ্য ছিল। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু মানুষের বন উজাড় ও খাদ্যশস্য ধ্বংস করার ফলে পশুরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। পেটের দায়েই তারা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

বনবিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে আট কিলোমিটার এলাকায় সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক বেষ্টনী) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণী তাড়াতে টিন পেটানো বা উচ্চশব্দে বাজনা বাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বনের ভেতরে বন্যপ্রাণীর পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-ইসরাইল সংঘাত: ইসরাইলের দাবি, আকাশপথে ২০০০টির বেশি বোমা বর্ষণ

কাপ্তাইয়ে লোকালয়ে বন্যপ্রাণীর হানা: হাতির আক্রমণে ১০ বছরে ঝরল ১৩ প্রাণ, আতঙ্কে জনজীবন

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় বন্যপ্রাণীর উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বনের বিশাল এলাকা ছেড়ে হাতি, বানর ও হনুমান এখন নিয়মিত হানা দিচ্ছে লোকালয়ে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের আওতাধীন এই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যপ্রাণীর অব্যাহত তাণ্ডবে জানমালের ক্ষতির পাশাপাশি বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কাপ্তাইয়ের শিলছড়ি, রামপাহাড়, ওয়াগ্গাছড়া চা বাগান, চিৎমরম মুসলিমপাড়া, কলা বুনিয়া, ব্রিকফিল্ড এবং বিউবো বাক্স হাউজ এলাকায় বন্য হাতির আনাগোনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নৌবাহিনী সড়ক, সুইডিশ আবাসিক এলাকা, ফরেস্ট কলোনি ও শিল্প এলাকাতেও হাতির দল নিয়মিত তান্ডব চালাচ্ছে। বনবিভাগের পরিসংখ্যান ও স্থানীয় তথ্যানুযায়ী, গত ১০ বছরে কাপ্তাইয়ে হাতির আক্রমণে অন্তত ১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩০ জন। হাতির দল কেবল মানুষের ওপর আক্রমণই করছে না, বরং ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাবাড় করে দিচ্ছে ফসলি জমি।

হাতির পাশাপাশি নতুন আপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে বানর ও হনুমানের দল। এসব বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে মানুষের সৃজিত বাগান ও ফলদ গাছপালা নষ্ট করছে। বিশেষ করে বরই, কলা, নারিকেল, আতাফল, শিম ও পেয়ারা বাগানগুলো উজাড় করে দিচ্ছে তারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, গৃহিণী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা লাঠি হাতে দিনরাত পাহারা দিয়েও এদের ঠেকাতে পারছেন না। শিল্প এলাকার ব্যবসায়ী শাহিন ও জাহাঙ্গীরসহ বেশ কয়েকজন জানান, বানর ও হনুমানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা দোকানপাট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দা হালিমা ও কোহিনূর এই দুর্বিষহ পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ পেতে বনবিভাগের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বন্যপ্রাণী কেন লোকালয়ে আসছে, সে বিষয়ে কাপ্তাই রেঞ্জ অফিসার ওমর ফারুক স্বাধীন জানান, বনের গভীরে এক সময় প্রচুর পশুখাদ্য ছিল। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু মানুষের বন উজাড় ও খাদ্যশস্য ধ্বংস করার ফলে পশুরা তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে। পেটের দায়েই তারা লোকালয়ে হানা দিচ্ছে।

বনবিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে ইতোমধ্যে আট কিলোমিটার এলাকায় সোলার ফেন্সিং (বৈদ্যুতিক বেষ্টনী) স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। বনবিভাগের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সচেতন করার পাশাপাশি হাতি বা অন্য বন্যপ্রাণী তাড়াতে টিন পেটানো বা উচ্চশব্দে বাজনা বাজানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য বনের ভেতরে বন্যপ্রাণীর পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করা জরুরি।