ঢাকা ০১:০০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

ধর্মীয় অঙ্গন থেকে সংসদে: সিলেট-৫ আসনে নবনির্বাচিত মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের অভূতপূর্ব বিজয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা এ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামি জোটের সমর্থনে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধর্মীয় পরিমণ্ডল থেকে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী ফোরামে তাঁর এই উত্তরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনে বিজয়ের পর মুফতি মাওলানা আবুল হাসান মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তিনি সিলেট-৫ আসনের সকল স্তরের জনসাধারণ, তাঁর দল ও মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিও তাঁর ধন্যবাদ ব্যক্ত করেন।

নব নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও আমি যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, “জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী পাঁচ বছর সিলেট-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত রাখব।” নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাজরগ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনি শিক্ষায় দীক্ষিত হন এবং কৃতিত্বের সাথে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতোয়া বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। এরপর চট্টগ্রামের জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতোয়া ও ইসলামী গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। শিক্ষা, দাওয়াত, তাসাউফ এবং সমাজসেবায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধাভাজন আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

ধর্মীয় অঙ্গন থেকে সংসদে: সিলেট-৫ আসনে নবনির্বাচিত মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের অভূতপূর্ব বিজয়

আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বৃহত্তর সিলেটের প্রখ্যাত আলেম, শিক্ষক ও সমাজসেবী মুফতি মাওলানা আবুল হাসান সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দীর্ঘকাল ধরে মসজিদের মিম্বর থেকে দ্বীনি দাওয়াত, শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজ সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখা এ ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের সংসদীয় রাজনীতিতে প্রবেশ জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। তিনি খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামি জোটের সমর্থনে এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ধর্মীয় পরিমণ্ডল থেকে সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী ফোরামে তাঁর এই উত্তরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনে বিজয়ের পর মুফতি মাওলানা আবুল হাসান মহান আল্লাহর দরবারে অশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একইসাথে তিনি সিলেট-৫ আসনের সকল স্তরের জনসাধারণ, তাঁর দল ও মহাজোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মী ও সমর্থকবৃন্দ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক এবং নির্বাচন পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতিও তাঁর ধন্যবাদ ব্যক্ত করেন।

নব নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বলেন, “জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে আমার ওপর যে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করেছেন, তা রক্ষা করা আমার নৈতিক দায়িত্ব। স্বল্প সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও আমি যে অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসা পেয়েছি, তার ঋণ শোধ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।” তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন যে, “জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আগামী পাঁচ বছর সিলেট-৫ আসনের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে নিয়োজিত রাখব।” নির্বাচনে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মামুনুর রশীদ মামুনের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মুফতি মাওলানা আবুল হাসানের জন্ম ১৯৬৬ সালের ১৫ অক্টোবর, সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রী ইউনিয়নের মাজরগ্রামে। শৈশব থেকেই তিনি দ্বীনি শিক্ষায় দীক্ষিত হন এবং কৃতিত্বের সাথে পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাওরায়ে হাদিস ও ফতোয়া বিভাগে উচ্চতর শিক্ষা লাভ করেন। এরপর চট্টগ্রামের জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া থেকে ফতোয়া ও ইসলামী গবেষণায় বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় মুফতি, মুহাদ্দিস ও শায়খুল হাদিস হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি জকিগঞ্জ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও বিয়ানীবাজার কেন্দ্রীয় মুকাম মসজিদের খতিব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। শিক্ষা, দাওয়াত, তাসাউফ এবং সমাজসেবায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি দলমত নির্বিশেষে সকল স্তরের মানুষের কাছে একজন গ্রহণযোগ্য ও শ্রদ্ধাভাজন আলেম হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।