অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুস-সংলগ্ন ফিলিস্তিনি গ্রাম তাল এবং সারার ভেতর দিয়ে সম্প্রতি একদল ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী উসকানিমূলক মিছিল করেছে। এ সময় তাদের সঙ্গে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, যা স্থানীয় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলি সেনাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বসতি স্থাপনকারীরা গ্রাম দুটির ভেতরের রাস্তা ব্যবহার করে হেঁটে যায়।
পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক সময়ে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের এমন উপস্থিতি ও তৎপরতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। মিছিল চলাকালে পশ্চিম তীরের তাল গ্রামের কাছে একটি কবরস্থানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। বসতি স্থাপনকারীরা মৃত ফিলিস্তিনিদের ওপর তৈরি স্মৃতিফলক ও পাথরের কাঠামো ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন।
গ্রামবাসীরা আরও জানান, ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের ওই মিছিলে সরাসরি সুরক্ষা দিচ্ছিল ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। বসতি স্থাপনকারীদের তাণ্ডবের প্রতিবাদ করতে গেলে ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ইসরাইলি সেনারা। এছাড়া, ফিলিস্তিনিদের ১২০ বছরের পুরোনো একটি বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। এই ধ্বংস করা বাড়িটি ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণা (নাকবা) দেওয়ার অন্তত ৪০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, তাদের নিজস্ব মাতৃভূমিতে ফিলিস্তিনি ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রাচীন সংস্কৃতি পুরোপুরি মুছে ফেলার একটি ত্বরান্বিত ও পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ হিসেবে এই প্রাচীন স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম এজে প্লাসের বরাতে এই ঐতিহাসিক নিদর্শনের ওপর ইসরাইলি ধ্বংসযজ্ঞের কথা বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে, গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক দল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ‘গাজা বোর্ড অব পিস’ বা শান্তি পরিকল্পনার আওতায় অস্ত্র সমর্পণে রাজি হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই উপত্যকাজুড়ে নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। এই হামলায় অন্তত দুই ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে। মধ্য গাজার সালাহ আল-দিন সড়কে পরিচালিত একটি ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান।
রিপোর্টারের নাম 






















