ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরানের

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তেহরান আরও হুমকি দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপের জবাবে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং অন্যান্য নৌপথও রুদ্ধ করে দেবে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বন্দর অবরুদ্ধ অবস্থা বজায় রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করা হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য প্রধান প্রধান সমুদ্রপথও সম্পূর্ণ বন্ধ বা রুদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদিও বিবৃতিতে অন্য কোনো প্রণালীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নৌ অবরোধ বহাল থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার চরমভাবে ব্যাহত হবে। বিবৃতিতে পরোক্ষভাবে মার্কিন ভোটারদেরও বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই সম্ভাব্য সংকট সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসের দাম বাড়াবে এবং মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে এবং নিজস্ব প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতেই ইরান এই নতুন মেরুকরণ বা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে। ইরানের জাতীয় জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে সম্ভাব্য হামলার জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই চরম হুঁশিয়ারি এলো।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এল নিনোর প্রভাবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির আশঙ্কা, জাতিসংঘের উদ্বেগ প্রকাশ

মার্কিন অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি ইরানের

আপডেট সময় : ১০:৪৪:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে অব্যাহত থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। তেহরান আরও হুমকি দিয়েছে যে, এই পদক্ষেপের জবাবে তারা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং অন্যান্য নৌপথও রুদ্ধ করে দেবে।

ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের বন্দর অবরুদ্ধ অবস্থা বজায় রাখে, তাহলে হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করা হবে। সেই সঙ্গে অন্যান্য প্রধান প্রধান সমুদ্রপথও সম্পূর্ণ বন্ধ বা রুদ্ধ করে দেওয়া হতে পারে। যদিও বিবৃতিতে অন্য কোনো প্রণালীর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব আল-মানদেব প্রণালি ও এডেন উপসাগরের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসী নৌ অবরোধ বহাল থাকলে বিশ্ব জ্বালানি বাজার চরমভাবে ব্যাহত হবে। বিবৃতিতে পরোক্ষভাবে মার্কিন ভোটারদেরও বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে বিশ্ববাজারে জ্বালানির এই সম্ভাব্য সংকট সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে গ্যাসের দাম বাড়াবে এবং মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রভাব ফেলবে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যেকোনো পদক্ষেপের পাল্টা জবাব দিতে এবং নিজস্ব প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করতেই ইরান এই নতুন মেরুকরণ বা রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে চাইছে। ইরানের জাতীয় জ্বালানি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নতুন করে সম্ভাব্য হামলার জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে এই চরম হুঁশিয়ারি এলো।