ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রনেতা আলিফ: দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় অসহায় পরিবার

হবিগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন ছাত্রশক্তি নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আলিফ চৌধুরী। ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় তার বাঁ চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে, যার ফলে তিনি এখন দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। বাবা, মা ও একমাত্র বড় ভাই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আলিফই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা, যিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের দায়িত্ব বহন করতেন।

সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে গত বৃহস্পতিবার তার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুরুতর আঘাতে তার বাঁ চোখের আইবল ফেটে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। একই সঙ্গে ডান চোখেও ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আলিফ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে তার চোখে আঘাত করা হয়েছিল, তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইট বা পাথরের মতো কোনো শক্ত বস্তুর আঘাতে তার চোখের আইবল ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে চোখের ওপরের ও নিচের পাতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আলিফ নবীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের ফারুক চৌধুরী ও আতিকা বেগম চৌধুরীর ছেলে এবং স্থানীয় হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। তার বাবা জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী এবং পরে এক দুর্ঘটনায় একটি পা হারান। মা ও একমাত্র বড় ভাইও শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে আলিফই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সুস্থ ও কর্মক্ষম সদস্য, যাকে ঘিরে পরিবারের সব স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের আশা ছিল।

চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে আলিফের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও চোখের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং পরবর্তী জটিলতা এড়াতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি: মিত্রতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

হবিগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত ছাত্রনেতা আলিফ: দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় অসহায় পরিবার

আপডেট সময় : ০৩:১৬:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

হবিগঞ্জে রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়েছেন ছাত্রশক্তি নবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আলিফ চৌধুরী। ২৮ জুলাই হবিগঞ্জ শহরের কোর্ট মসজিদ এলাকায় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হামলায় তার বাঁ চোখে মারাত্মক আঘাত লাগে, যার ফলে তিনি এখন দৃষ্টিশক্তি হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন। বাবা, মা ও একমাত্র বড় ভাই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় আলিফই ছিলেন পরিবারের একমাত্র ভরসা, যিনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে নিজের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের দায়িত্ব বহন করতেন।

সংঘর্ষে আহত হওয়ার পর প্রথমে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে তাকে রাজধানীর জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে পাঠানো হয়, যেখানে গত বৃহস্পতিবার তার বাঁ চোখে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।

চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, গুরুতর আঘাতে তার বাঁ চোখের আইবল ফেটে যায়। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের চেষ্টা করা হলেও বাম চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ। একই সঙ্গে ডান চোখেও ঝাপসা দেখার সমস্যা দেখা দেওয়ায় চিকিৎসকদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আলিফ নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি কী দিয়ে তার চোখে আঘাত করা হয়েছিল, তবে ধারণা করা হচ্ছে, ইট বা পাথরের মতো কোনো শক্ত বস্তুর আঘাতে তার চোখের আইবল ফেটে যায় এবং ভেতরের অংশ বাইরে বেরিয়ে আসে। একই সঙ্গে চোখের ওপরের ও নিচের পাতাও গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আলিফ নবীগঞ্জ উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের ফারুক চৌধুরী ও আতিকা বেগম চৌধুরীর ছেলে এবং স্থানীয় হোমল্যান্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। তার বাবা জন্মগতভাবে মানসিক প্রতিবন্ধী এবং পরে এক দুর্ঘটনায় একটি পা হারান। মা ও একমাত্র বড় ভাইও শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধিতার সঙ্গে জীবনযাপন করছেন। এই পরিস্থিতিতে আলিফই ছিলেন পরিবারের একমাত্র সুস্থ ও কর্মক্ষম সদস্য, যাকে ঘিরে পরিবারের সব স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের আশা ছিল।

চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে আলিফের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও চোখের ক্ষতি অত্যন্ত গুরুতর। অস্ত্রোপচারের পর তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি রক্ষা এবং পরবর্তী জটিলতা এড়াতে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।