ঢাকা ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশ: কৌশলগত লাভ-ক্ষতির হিসাব

সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সামরিক জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ মোট ১৩টি দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই জোটের তাৎপর্য খতিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়লে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় গঠিত এই নৌ-সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, শ্রমবাজার, বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যের জটিল হিসাব এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে।

তবে সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জোটে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও দেখছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, এই জোটে যুক্ত হলে একদিকে যেমন ইরান এবং ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে, অন্যদিকে জোট থেকে বিরত থাকলে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরকে ব্যবহার করছে। কিন্তু সম্প্রতি লোহিত সাগরে সৌদি ও তাদের মিত্রদের তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নৌ-অবরোধের ঘোষণার ফলে ওই পথ দিয়েও নৌযান চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে ইরানের হুঁশিয়ারি: মিত্রতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় সৌদি সামরিক জোটে বাংলাদেশ: কৌশলগত লাভ-ক্ষতির হিসাব

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সামরিক জোটে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ মোট ১৩টি দেশের অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিশ্বজুড়ে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় এই জোটের তাৎপর্য খতিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর পর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়লে বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুটটি বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করে। এরপর থেকে লোহিত সাগরে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণের কারণে বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর এবং এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় গঠিত এই নৌ-সামরিক জোটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণকে কৌশলগত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, জ্বালানি নিরাপত্তা, শ্রমবাজার, বাণিজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যের জটিল হিসাব এই সিদ্ধান্তের পেছনে কাজ করেছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই জোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে।

তবে সামরিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা এই জোটে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও দেখছেন। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী নিরপেক্ষ পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে এটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

তাদের মতে, এই জোটে যুক্ত হলে একদিকে যেমন ইরান এবং ইরান সমর্থিত বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরোধিতার সম্মুখীন হতে হবে, অন্যদিকে জোট থেকে বিরত থাকলে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়ায় উপসাগরীয় দেশগুলো, বিশেষ করে সৌদি আরব বিকল্প হিসেবে লোহিত সাগরকে ব্যবহার করছে। কিন্তু সম্প্রতি লোহিত সাগরে সৌদি ও তাদের মিত্রদের তেলবাহী জাহাজে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে হুথিদের নৌ-অবরোধের ঘোষণার ফলে ওই পথ দিয়েও নৌযান চলাচলের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।