ভারত-বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের এক যুগ পূর্ণ হলেও কুড়িগ্রামের সাবেক ছিটমহলগুলোতে প্রত্যাশিত উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আজও সৃষ্টি হয়নি। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাই মধ্যরাতে দীর্ঘ ৬৮ বছরের বন্দিদশার অবসান ঘটিয়ে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাসিয়ারছড়া ছিটমহল বাংলাদেশের সঙ্গে একীভূত হয়েছিল। মুজিব-ইন্দিরা স্থলসীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্ব লাভের পর হাজারো ছিটমহলবাসী নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তবে এক যুগ পেরিয়ে গেলেও সেই স্বপ্ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
নাগরিক পরিচয় মিললেও জীবিকার নিশ্চয়তা, শিল্পায়ন ও মানসম্মত শিক্ষা-প্রশিক্ষণের অভাবে এখনো বৈষম্যের শিকার বলে দাবি করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পঞ্চান্ন বছর বয়সী মোজাফফর আলী, যিনি ছিটমহল বিনিময়ের আগে ভারতের বিভিন্ন ইটভাটায় দিনমজুরের কাজ করতেন, এখন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালাতে বাধ্য হন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, এলাকায় কাজ না থাকায় এই বয়সেও তাকে বছরের চার-পাঁচ মাস পরিজন ছেড়ে একা ঢাকায় থাকতে হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত ১১ বছরে কয়েকটি সড়ক, বিদ্যুৎ ও সরকারি সেবার কিছু উন্নয়ন হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এলাকায় এখনো গড়ে ওঠেনি উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষুদ্র, মাঝারি বা বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান। ফলে অধিকাংশ মানুষ কৃষিকাজ, দিনমজুরি ও মৌসুমি শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। সদ্য কলেজ পাশ করা মইনুল ইসলাম জানান, ছিটমহলে কারিগরি ও আইসিটি শিক্ষার ব্যাপক অভাব। তিনি পাঁচ বছর আগে ৫৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সরকার নির্মিত একটি আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র দ্রুত চালুর দাবি জানান, যা গত প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
মইনুল আরও জানান, এখানে নারী শিক্ষার হার কম, ছেলেমেয়েদের খেলাধুলা করার মতো মাঠ নেই এবং শিশুদের বিনোদনের স্থানের অভাব রয়েছে। এসব কারণে যুবসমাজে মাদকাসক্তির শঙ্কার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। সাবেক ছিটমহলগুলোর সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান বিএনপি সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দাশিয়ারছড়াবাসী।
রিপোর্টারের নাম 





















