ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

মেহেরপুরে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসক ও ক্লিনিকে হামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত মেহেরপুর ক্লিনিকে এক নারীর অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই নাছিমা খাতুন (৫৫) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর এবং সেখানে দায়িত্বরত দুই চিকিৎসককে মারধর করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা খাতুনকে জরায়ুর জটিলতার কারণে সন্ধ্যায় মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ডা. মিজানুর রহমান ও তার পুত্র ডা. মুশফিকুর রহমান অভি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে, অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ার পূর্বেই নাছিমা খাতুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু ঘটে।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকটিতে হামলা চালায়। তারা অস্ত্রোপচার কক্ষের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে এবং ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. মুশফিকুর রহমান অভিকে বেধড়ক মারধর করে। এতে দুই চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই চিকিৎসককে উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীর পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের অবহেলাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করলেও, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ডা. মিজানুর রহমান জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার আগেই রোগী মানসিক চাপে (প্যানিক অ্যাটাক) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মেহেরপুরের সভাপতি ডা. আব্দুস সালামও জানিয়েছেন যে, অস্ত্রোপচারের আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক এবং ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু জানিয়েছেন, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

মেহেরপুরে অস্ত্রোপচারের সময় রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসক ও ক্লিনিকে হামলা

আপডেট সময় : ০৪:৪০:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মেহেরপুর শহরের মল্লিকপাড়ায় অবস্থিত মেহেরপুর ক্লিনিকে এক নারীর অস্ত্রোপচারের সময় মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনদের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণেই নাছিমা খাতুন (৫৫) নামে ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকটিতে ভাঙচুর এবং সেখানে দায়িত্বরত দুই চিকিৎসককে মারধর করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যানুযায়ী, গাংনী উপজেলার গাড়াবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা নাছিমা খাতুনকে জরায়ুর জটিলতার কারণে সন্ধ্যায় মেহেরপুর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে তাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। ডা. মিজানুর রহমান ও তার পুত্র ডা. মুশফিকুর রহমান অভি অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তবে, অস্ত্রোপচার শুরু হওয়ার পূর্বেই নাছিমা খাতুন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অপারেশন টেবিলেই তার মৃত্যু ঘটে।

রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় উত্তেজিত জনতা ক্লিনিকটিতে হামলা চালায়। তারা অস্ত্রোপচার কক্ষের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভাঙচুর করে এবং ডা. মিজানুর রহমান ও ডা. মুশফিকুর রহমান অভিকে বেধড়ক মারধর করে। এতে দুই চিকিৎসক গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুই চিকিৎসককে উদ্ধার করে। বর্তমানে তারা মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোগীর পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসকদের অবহেলাকে মৃত্যুর জন্য দায়ী করলেও, এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে ডা. মিজানুর রহমান জানান, অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় ইনজেকশন দেওয়ার আগেই রোগী মানসিক চাপে (প্যানিক অ্যাটাক) অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) মেহেরপুরের সভাপতি ডা. আব্দুস সালামও জানিয়েছেন যে, অস্ত্রোপচারের আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক এবং ক্লিনিক ভাঙচুরের ঘটনা তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মেহেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মেহেদি হাসান দিপু জানিয়েছেন, রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর রয়েছে।