ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪১ জন প্রার্থীর মধ্যে ২৭ জনই তাদের নির্বাচনী জামানত হারিয়েছেন। জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইনের স্বাক্ষরিত বেসরকারি ফলাফলের তালিকা বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে, যা ভোটের মাঠে বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর শোচনীয় পরাজয়কেই নির্দেশ করে।
নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থীকে তার জামানত রক্ষা করতে হলে মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত এক-অষ্টমাংশ বা ১২.৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। এর চেয়ে কম ভোট পেলে সেই প্রার্থীর জামানত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাজেয়াপ্ত হয়ে যায়। নরসিংদীর ৬টি উপজেলার অধীনে থাকা ৫টি সংসদীয় আসনে মোট প্রার্থী ছিলেন ৪১ জন। এর মধ্যে ২৭ জনই এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
আসনভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, নরসিংদী-১ (সদর) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন, নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে ৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন, নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে ৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন, নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৭ জন এবং নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে ১০ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই নির্বাচনের ফলাফলে নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি জয়লাভ করেছে।
যারা জামানত হারালেন:
নরসিংদী-১ (সদর) আসনে জামানত হারানো প্রার্থীরা হলেন: জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আশরাফ হোসেন, গণফোরামের শহিদুজ্জামান চৌধুরী, গণ অধিকার পরিষদের শিরিন আক্তার, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের সাখাওয়াত হোসেন এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের হামিদুল হক পারভেজ।
নরসিংদী-২ (পলাশ) আসনে জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রার্থীরা হলেন: ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আসিফ ইকবাল, জাতীয় পার্টির এ এন এম রফিকুল ইসলাম সেলিম এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনে যাদের জামানত রক্ষা হয়নি, তারা হলেন: জাকের পার্টির প্রার্থী আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম আলী পাঠান, জাতীয় পার্টির একেএম রেজাউল করিম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ওয়ায়েজ হোসেন ভূইয়া, জামায়াতে ইসলামীর মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং ইনসানিয়াত বিপ্লবের বাংলাদেশের রায়হান মিয়া।
নরসিংদী-৪ (মনোহরদী-বেলাবো) আসনে জামানত হারানো প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন: জনতার দলের আবু দারদা মো. মা’জ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের কাজী শরীফুল ইসলাম, কমিউনিস্ট পার্টির কাজী সাজ্জাদ জহির, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মুহম্মদ মিলন মিয়া, খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, জাতীয় পার্টির মো. কামাল উদ্দিন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. ছাইফুল ইসলাম।
জেলার বৃহত্তম উপজেলা নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে জামানত হারিয়েছেন: নরসিংদী জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি (সদ্য বহিষ্কৃত) জামাল আহমেদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের বাংলাদেশের তাহমিনা আক্তার, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের মশিউর রহমান, জাতীয় পার্টির মেহেরুন নেছা খান হেনা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সোলায়মান খন্দকার।
রিপোর্টারের নাম 






















