চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হালদা নদীতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া এক যুবকের তিন দিন পরও সন্ধান মেলেনি। সাব্বির (২১) নামের ওই তরুণকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকলেও তার ফিরে আসার অপেক্ষায় প্রহর গুণছে পরিবার। স্বজনদের আহাজারি আর নদীতীরে দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্য দিয়ে চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে এই নিখোঁজ ঘটনা।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডস্থ রামদাস মুন্সির হাটে একটি মাজারের ওরস চলাকালে দুই দল যুবকের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর মধ্যরাতে একদল যুবক নৌকায় করে রাউজানের বাড়িতে ফেরার পথে অপর পক্ষ তাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা নদীতে থাকা নৌকা টেনে ধরে সেখানে থাকা যুবকদের মারধর করে। একপর্যায়ে তিনজন নদীতে পড়ে যান। দুজনের সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাব্বির নামের ওই তরুণ পানিতে তলিয়ে যান। তার সঙ্গে থাকা বন্ধুরা জানিয়েছেন, হামলার সময় সাব্বিরের মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল।
নিখোঁজ সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মৈশকরমস্থ মানাউল্লাহ চৌধুরী বাড়ির আবদুল মান্নানের ছেলে। তার বড় ভাই মো. টিপু রবিবার এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ওই তরুণের কোনো সন্ধান পায়নি। নিখোঁজ যুবকের পরিবারের সদস্যরা এখনো হালদা নদীর পাড়ে অবস্থান করছেন, প্রিয়জনের ফেরার অপেক্ষায়।
ঘটনার সময় সাব্বিরের সঙ্গে থাকা বন্ধু মারুফ জানান, হামলার শিকার হয়ে সেও নৌকা থেকে নদীতে ঝাঁপ দেয়। তাদের সঙ্গে থাকা অন্যরা সাঁতরে কূলে উঠতে পারলেও সাব্বির উঠতে পারেননি। পরে ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, দুই গ্রুপের পূর্বের দ্বন্দ্বের জের ধরে গতকাল রাতে এই হামলা হয়। হামলার একপর্যায়ে সাব্বির নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আর উঠে আসতে পারেননি।
ভিকটিম সাব্বিরের চাচাতো ভাই মো. টিপু জানান, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানান তিনি।
হাটহাজারী উপজেলার উত্তর মার্দাশা রামদাস মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রমজান জানান, খবর পাওয়ার পর থেকে নদীতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ যুবকের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
হাটহাজারী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. আবদুল মান্নান জানান, জেলা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ৬ সদস্যের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান মেলেনি। উদ্ধার প্রক্রিয়া চলমান আছে।’
রিপোর্টারের নাম 






















