মুন্সীগঞ্জে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১৪ বছর বয়সী কিশোর অটোরিকশাচালক শাকিল খালাসির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার চরহায়দ্রাবাদ গ্রামের বাসিন্দা শাকিল খালাসি ১০ ফেব্রুয়ারি সকালে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির পর পুলিশ অনুসন্ধান শুরু করে।
নিখোঁজের পাঁচ দিন পর রবিবার সকালে চরকিশোরগঞ্জ এলাকার নদীর ধারের একটি চর থেকে শাকিলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে শাকিলকে চরকিশোরগঞ্জে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ নদীর চরে ফেলে রাখা হয়। এরপর অটোরিকশাটির বিভিন্ন অংশে খুলে নারায়ণগঞ্জে বিক্রির চেষ্টা চালানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন– মুন্সীগঞ্জের উত্তর চর মধুরা এলাকার রবি আলী শেখের ছেলে রাজন শেখ (২৫), উত্তর চর মশুরা এলাকার নজরুল সরকারের ছেলে ইমরান সরকার (১৯), একই এলাকার জবেদ আলী সিকদারের ছেলে শরীফ সুলতান আফসু (২৫) এবং দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার মৃত জয়নাল আবেদীন গাজীর ছেলে মো. ইউসুফ গাজী (৬০)। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে খণ্ডিত অটোরিকশা ও হত্যাকাণ্ড-সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পুলিশ জানান, গ্রেফতার শরীফ সুলতান আফসু জুয়া খেলায় ২৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। আর ওই টাকা পরিশোধ করতে বন্ধুদের নিয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে ১৭ জানুয়ারি দুপুরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে শাকিলের অটোরিকশায় ওঠে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে চরকিশোরগঞ্জ এলাকার মিনি কক্সবাজারের অদূরে নিয়ে তাকে হত্যা করে। পরে ইউসুফ গাজীর কাছে ২০ হাজার টাকায় অটোরিকশাটি বিক্রি করে।
রিপোর্টারের নাম 






















