নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লিখিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ছাপিয়ে ৩০০ পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। পণ্য বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে কার্ড বিক্রির পর প্রতারণার শিকার হয়ে সোমবার সকালে অভিযুক্ত ওই নেতার বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এই ঘটনায় নরসিংপুর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
অভিযুক্ত ওই নেতার নাম রাসেল ওরফে জিলানী। জানা গেছে, তিনি মহানগর বিএনপির প্রভাবশালী এক নেতার ছত্রছায়ায় রাজনীতি করেন। নির্বাচনের পরদিন থেকেই জিলানী ও তার স্ত্রী স্থানীয় সহজ-সরল নারীদের কাছে ‘জিসান ট্রেডার্স’ নাম ব্যবহার করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিক্রি শুরু করেন। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে তারা প্রতিটি কার্ড ৫০ টাকায় বিক্রি করে ৩০০ পরিবারের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করেন। কার্ডধারীদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে, প্রতি মাসে ১২৮৫ টাকায় তারা ১৭২৫ টাকার পণ্য কিনতে পারবেন।
সোমবার সকালে প্রথম কিস্তির পণ্য বিতরণের কথা ছিল। সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়িয়ে গেলেও যখন পণ্য বিতরণ করা হয়নি, তখন ভুক্তভোগীরা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তারা একত্রিত হয়ে জিলানীর নরসিংপুরের বাড়িতে গিয়ে তাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ভুক্তভোগী জুলেখা বেগম জানান, “আমাদের বলা হয়েছিল সরকারিভাবে কোম্পানি থেকে এসব কার্ড দেওয়া হচ্ছে। আমরা সকাল ১০টা থেকে অপেক্ষা করছি। কার্ড দেবে বলে বসিয়ে রাখা হয়েছে, এখন ফোনও ধরছে না।” স্থানীয়রা আরও জানান, রাসেল ওরফে জিলানী ও তার স্ত্রী কাশিপুরের নরসিংপুর, বকুলতলা, চর কাশিপুর ও মধ্য নরসিংপুর এলাকায় প্রায় তিন শতাধিক ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করেছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও স্বল্পশিক্ষিত।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম টিটু বলেন, “আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ আছে। কিন্তু এখনো এটার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এরই মধ্যে একটি প্রতারক চক্র ফ্যামিলি কার্ড ছাপিয়ে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছে। এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে যারা জড়িত, প্রশাসনের উচিত তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ জানান, “আপনার মাধ্যমেই ঘটনাটি জানতে পারলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টারের নাম 






















