ঢাকা ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবদল নেতা গুরুতর আহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় যুবদল নেতা কাকন মিয়ার (৩৫) ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোয় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার দুই পা জখম এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কাকন মিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের দূর্বলাগাড়ী গ্রামের মিরু মণ্ডলের ছেলে এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডলের ভাগনে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কাকন ওই বাজারে অবস্থানকালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কাকন হাত দিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান হাতের কবজি কেটে যাওয়াসহ একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়।

হাসপাতালে কাকন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘হঠাৎ করেই কয়েকজন আমাকে ওপর হামলা চালায়। তাদের আমি চিনতে পারিনি এবং কী কারণে হামলা হয়েছে তা জানাতে পারছি না।’

পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছেন।

হামলার শিকার কাকনের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামলাকারীদের আঘাতে কাকনের দুই পা জখম হয়েছে ও ভেঙে গেছে এবং ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে সংকটময় বলে জেনেছি৷’

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সরোয়ার আলম খাস বলেন, ‘বাজারে দুর্বৃত্তদের হামলায় কাকন মারাত্মক জখম হয়েছেন। হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় নির্ণয় করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’

অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জামায়াতের বরিশাল ইউনিয়নের আমির শামীম প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জুনদহ বাজারের ঘটনার সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরের কোনও নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কাকন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

গাইবান্ধায় দুর্বৃত্তদের হামলায় যুবদল নেতা গুরুতর আহত

আপডেট সময় : ০৯:৪২:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় যুবদল নেতা কাকন মিয়ার (৩৫) ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা করেছে। ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপানোয় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। তার দুই পা জখম এবং হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের জুনদহ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কাকন মিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য এবং বরিশাল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ওই ইউনিয়নের দূর্বলাগাড়ী গ্রামের মিরু মণ্ডলের ছেলে এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ মণ্ডলের ভাগনে।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কাকন ওই বাজারে অবস্থানকালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালায়। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার পর হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। কাকন হাত দিয়ে হামলা প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে এবং ডান হাতের কবজি কেটে যাওয়াসহ একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়।

হাসপাতালে কাকন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘হঠাৎ করেই কয়েকজন আমাকে ওপর হামলা চালায়। তাদের আমি চিনতে পারিনি এবং কী কারণে হামলা হয়েছে তা জানাতে পারছি না।’

পলাশবাড়ী উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীরা স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছেন।

হামলার শিকার কাকনের দলীয় পরিচয় নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘হামলাকারীদের আঘাতে কাকনের দুই পা জখম হয়েছে ও ভেঙে গেছে এবং ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তার অবস্থা বর্তমানে সংকটময় বলে জেনেছি৷’

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সরোয়ার আলম খাস বলেন, ‘বাজারে দুর্বৃত্তদের হামলায় কাকন মারাত্মক জখম হয়েছেন। হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় নির্ণয় করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।’

অন্যদিকে, হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জামায়াতের বরিশাল ইউনিয়নের আমির শামীম প্রধান এক বিবৃতিতে বলেন, ‘জুনদহ বাজারের ঘটনার সঙ্গে জামায়াত বা শিবিরের কোনও নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা নেই। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে একটি মহল মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

তিনি সুষ্ঠু তদন্ত করে হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কাকন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন, পরে অবস্থার অবনতি হলে রাতেই তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।