ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি, একজন আহত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিএনপিপন্থি সাদা দলের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল নামের একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম এর প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একদল শিক্ষক ভিসির কার্যালয়ে যান। তাদের কয়েকজন ভিসিকে পদত্যাগ করতেও বলেন। এ নিয়ে প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিন ও ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. ইকবালকে ঘুষি মারেন। মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হন আরও কয়েকজন শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ড. মাহবুবের পাশাপাশি প্রক্টর তাকেও লাথি দিয়েছে, মারধর করেছে। আমরা উপাচার্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রশ্ন-উত্তর প্রসঙ্গে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে হঠাৎ করেই আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করে ভিসির লোকজন। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক শিক্ষক হামলাকে ‘মত প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের একটি অংশ জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, গত কিছুদিন ধরে ভিসি বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ শুরু করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও তিনি যথারীতি অফিস করছেন এবং লোক নিয়োগ করছেন। পাশাপাশি ভিসির বিরুদ্ধে পদোন্নতি থেকে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রফেসর মাহবুব ইকবাল বলেন, আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে ভিসি প্রক্টরের লোকজন আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন। মেরে আমার নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি এখন একটু বিশ্রামে আছি।

সিকৃবি উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম, প্রক্টর ও ভিসির ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের মধ্যে মারামারি, একজন আহত

আপডেট সময় : ০৮:০৬:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) বিএনপিপন্থি সাদা দলের শিক্ষকদের দুই গ্রুপের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবাল নামের একজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ প্রতিবেদককে জানান, উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম এর প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিবাদ জানাতে রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একদল শিক্ষক ভিসির কার্যালয়ে যান। তাদের কয়েকজন ভিসিকে পদত্যাগ করতেও বলেন। এ নিয়ে প্রক্টর ড. জসিম উদ্দিন ও ফিশ বায়োলজি ও জেনেটিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে প্রক্টর প্রফেসর ড. ইকবালকে ঘুষি মারেন। মারামারি থামাতে গিয়ে আহত হন আরও কয়েকজন শিক্ষক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ্যা ও হাওর কৃষি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোজাম্মেল হক বলেন, ড. মাহবুবের পাশাপাশি প্রক্টর তাকেও লাথি দিয়েছে, মারধর করেছে। আমরা উপাচার্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়ম ও প্রশ্ন-উত্তর প্রসঙ্গে ভিসির সঙ্গে দেখা করতে গেলে হঠাৎ করেই আমাদের লক্ষ্য করে আক্রমণ করে ভিসির লোকজন। এতে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়। অনেক শিক্ষক হামলাকে ‘মত প্রকাশের ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ ছাড়া শিক্ষকদের একটি অংশ জরুরি বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র জানায়, গত কিছুদিন ধরে ভিসি বিধিবহির্ভূতভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে লোক নিয়োগ শুরু করেছেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকলেও তিনি যথারীতি অফিস করছেন এবং লোক নিয়োগ করছেন। পাশাপাশি ভিসির বিরুদ্ধে পদোন্নতি থেকে শিক্ষকদের বঞ্চিত করা এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, এসব বিষয়ে প্রশ্ন তুললে সম্প্রতি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রফেসর মাহবুব ইকবাল বলেন, আমরা অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলে ভিসি প্রক্টরের লোকজন আমাকে মেরে রক্তাক্ত করেছেন। মেরে আমার নাক-মুখ ফাটিয়ে দিয়েছে তারা। আমি প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছি এখন একটু বিশ্রামে আছি।

সিকৃবি উপাচার্য ড. আলিমুল ইসলাম, প্রক্টর ও ভিসির ব্যক্তিগত সহকারীর সঙ্গে এ নিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।