ঢাকা ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবিরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ জোহর নিজের প্রতিষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শেখ কবির হোসেনকে ‘গার্ড অব অর্নার’ দেওয়া হয়। তারপর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। তার আপন চাচাতো ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ কবির হোসেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ১৯৭৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১১ সালে। এরপর টানা ১৩ বছর এ পদে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এ ছাড়া ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবিরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

আপডেট সময় : ০৭:৪৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। রবিবার বিকালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রবিবার বেলা সাড়ে ১১টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে তার মরদেহ ঢাকা থেকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আত্মীয়-স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বাদ জোহর নিজের প্রতিষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে শেখ কবির হোসেনকে ‘গার্ড অব অর্নার’ দেওয়া হয়। তারপর সেখানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এস এম জিলানী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। তার আপন চাচাতো ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ কবির হোসেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ১৯৭৫ সালে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন। দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১১ সালে। এরপর টানা ১৩ বছর এ পদে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন।

এ ছাড়া ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।