ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

জালিয়াতি ও চর দখলের নির্বাচন হয়েছে: আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির যে নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ‘জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, তারা ’২৪-এর অভ্যুত্থান ভুলে যাবেন না।’

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট ও পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন ফুয়াদ।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আসাদুজ্জামামান ফুয়াদ বলেন, ‘যে ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলাবেন বলেছেন, সেটা কাগজ-কলমে না তার অ্যাকশন দেখতে চাই। আপনার দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আপনি কীভাবে ডিল করবেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনি সফল হবেন কি হবেন না। দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, নিশ্চিত থাকেন আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ ২৪-এর আগের বাংলাদেশে ফিরে যাবে না।’

ফুয়াদ বলেন, ‘জাল-জালিয়াতির ও চর দখলের নির্বাচন হয়েছে ২০২৬ সালে গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রথম  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। ‎বিএনপির যে নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ভোট আর পার্সেন্টেজ যাই হোক, ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের আছে। আজকে যারা গুন্ডামি মাস্তানি করছে এরাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেত, পাটক্ষেতে ছিল। নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে উঠছে, একই জুলুম করছে। এই রকমের চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, দয়া করে ২৪ ভুলে যাবেন না।’ 

এ সময় ভোটার ও এজেন্টদের একাধিক ম্যাসেজ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে উপস্থাপন করেন ফুয়াদ। এ ধরনের ভুরি ভুরি ম্যাসেজ ভোটের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে তার কাছে এসেছে বলেও জানান।

নিজের আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান ভুইয়া বলেন, ‘ভোটের দিন বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনবরত ফোন আসছিল—কেন্দ্র দখল, অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারা, এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর। সারা দিন বাবুগঞ্জে চর দখলের মতো ভোটকেন্দ্রের দখল ফেরাতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মুলাদীর দিকে নজর দিতে পারিনি।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘মুলাদী উপজেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে পৌঁছাতে পারে না। ফলে মুলাদীর কেন্দ্রগুলোতে ব্যালটে সিল মারলেও আমাদের এজেন্টরা ভয়ে তখন ফোন করেননি। ভোট শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর নিরাপদে গিয়ে আমাদের ফোন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন।’ 

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের ছবি প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘এগুলো দেখলেই বোঝা যাবে কীভাবে ভোটের দিন চর দখলের নাটক হয়েছে। এ ধরনের চর দখল ও জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। আমরা দেখেছি, গণভোটের চেয়ে এমপি ভোট বেশি পড়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয়, এখানে বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ৫৫ বছর পর এসেও রামদা, চাপাতির ভয়ে পছন্দের মানুষের কাছে ভোট চাইতে না পারাটা লজ্জার। জাতীয় চরিত্র সমাধান করার আগ পর্যন্ত এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। ডিসেম্বর মাস থেকে আমরা দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির হয়ে গেছে। প্রশাসনকে সাবধান করে দিয়ে বলছি, কে, কোথায় কোন রোল প্লে করেছেন, হিস্যা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সবার জন্য সমান ফিল্ড তৈরি করার। যেন সবাই ন্যায্যভাবে সমতার সঙ্গে গণসংযোগ এবং ভয়-ভীতিহীন একটা ভোটের দিন পায়। সেটা করতে প্রশাসনের একটা বড় অংশ ব্যর্থ হয়েছে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন ১৮ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

জালিয়াতি ও চর দখলের নির্বাচন হয়েছে: আসাদুজ্জামান ফুয়াদ

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিএনপির যে নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠছেন, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তিনি বলেন, ‘জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, তারা ’২৪-এর অভ্যুত্থান ভুলে যাবেন না।’

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচনে অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, জাল ভোট ও পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী ছিলেন ফুয়াদ।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে আসাদুজ্জামামান ফুয়াদ বলেন, ‘যে ৩১ দফার ওপর ভিত্তি করে আপনি বাংলাদেশ বদলাবেন বলেছেন, সেটা কাগজ-কলমে না তার অ্যাকশন দেখতে চাই। আপনার দলের গুন্ডা, মাস্তান, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আপনি কীভাবে ডিল করবেন, তার ওপর নির্ভর করছে আপনি সফল হবেন কি হবেন না। দলের ক্রিমিনাল গ্যাংদের যদি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, নিশ্চিত থাকেন আপনার জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ ২৪-এর আগের বাংলাদেশে ফিরে যাবে না।’

ফুয়াদ বলেন, ‘জাল-জালিয়াতির ও চর দখলের নির্বাচন হয়েছে ২০২৬ সালে গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী প্রথম  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে। ‎বিএনপির যে নেতাকর্মীরা নব্য আওয়ামী ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে, তাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে তারেক রহমানের জন্য ভয়াবহ ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।’ 

তিনি বলেন, ‘ভোট আর পার্সেন্টেজ যাই হোক, ঢাকার রাজপথ কাঁপিয়ে দেওয়ার মতো শক্তি ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থীদের আছে। আজকে যারা গুন্ডামি মাস্তানি করছে এরাই গত ১৬ বছর ধানক্ষেত, পাটক্ষেতে ছিল। নিজেরা নির্যাতনের শিকার হওয়ার পরও ১৬ বছর পর আবার জালেম হয়ে উঠছে, একই জুলুম করছে। এই রকমের চর দখলের নির্বাচন করে যারা ক্ষমতায় যাচ্ছেন, দয়া করে ২৪ ভুলে যাবেন না।’ 

এ সময় ভোটার ও এজেন্টদের একাধিক ম্যাসেজ গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে উপস্থাপন করেন ফুয়াদ। এ ধরনের ভুরি ভুরি ম্যাসেজ ভোটের দিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে তার কাছে এসেছে বলেও জানান।

নিজের আসনে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে আসাদুজ্জামান ভুইয়া বলেন, ‘ভোটের দিন বাবুগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে অনবরত ফোন আসছিল—কেন্দ্র দখল, অস্ত্র নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে ব্যালটে সিল মারা, এজেন্টদের বের করে দিয়ে জাল ভোট দেওয়াসহ নানা অনিয়মের খবর। সারা দিন বাবুগঞ্জে চর দখলের মতো ভোটকেন্দ্রের দখল ফেরাতে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন মুলাদীর দিকে নজর দিতে পারিনি।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘মুলাদী উপজেলা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহজে পৌঁছাতে পারে না। ফলে মুলাদীর কেন্দ্রগুলোতে ব্যালটে সিল মারলেও আমাদের এজেন্টরা ভয়ে তখন ফোন করেননি। ভোট শেষে সন্ধ্যা ৬টার পর নিরাপদে গিয়ে আমাদের ফোন করে এসব তথ্য জানিয়েছেন।’ 

সংবাদ সম্মেলনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে অনিয়মের ছবি প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘এগুলো দেখলেই বোঝা যাবে কীভাবে ভোটের দিন চর দখলের নাটক হয়েছে। এ ধরনের চর দখল ও জালিয়াতির নির্বাচন হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। আমরা দেখেছি, গণভোটের চেয়ে এমপি ভোট বেশি পড়েছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয়, এখানে বড় ধরনের কারচুপি হয়েছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, ৫৫ বছর পর এসেও রামদা, চাপাতির ভয়ে পছন্দের মানুষের কাছে ভোট চাইতে না পারাটা লজ্জার। জাতীয় চরিত্র সমাধান করার আগ পর্যন্ত এগুলো পরিবর্তন করা যাবে না। ডিসেম্বর মাস থেকে আমরা দেখছি প্রশাসন প্রচ্ছন্নভাবে বিএনপির হয়ে গেছে। প্রশাসনকে সাবধান করে দিয়ে বলছি, কে, কোথায় কোন রোল প্লে করেছেন, হিস্যা নেওয়া হবে। প্রশাসনের দায়িত্ব ছিল সবার জন্য সমান ফিল্ড তৈরি করার। যেন সবাই ন্যায্যভাবে সমতার সঙ্গে গণসংযোগ এবং ভয়-ভীতিহীন একটা ভোটের দিন পায়। সেটা করতে প্রশাসনের একটা বড় অংশ ব্যর্থ হয়েছে।

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জয়নুল আবেদীন পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯৩০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত ঈগল প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া পেয়েছেন ৬১ হাজার ১৯২ ভোট। জয়নুল আবেদীন ১৮ হাজার ৭৩৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।