ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

বগুড়ায় পরিবহন ব্যবসায়ীকে হত্যা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

বগুড়ার গাবতলীতে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়ির পাশে একটি জমিতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তিন দিনে জেলায় তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটলো। আগের দুটি হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন না হতেই তৃতীয় হত্যার ঘটনায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রবিবার দুপুরে গাবতলী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ার জামাল উদ্দিন জামুর ছেলে। তিনি আগে ট্রাক চালাতেন। বর্তমানে ছোটবড় সাতটি ট্রাকের মালিক। তিনি প্রতিদিন কাজ শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। রবিবার সকাল পর্যন্ত বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফোন দিয়েও তার কোনও সাড়া মেলেনি। পরে বাড়ির উত্তর পাশে একটি ঘাসের জমিতে তার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহতের মেয়ে সাদিয়া আকতার জানান, তার বাবা সাইফুল ইসলাম প্রতিদিন রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরতেন। শনিবার রাতে বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে পারেননি।

এদিকে, হত্যার খবর পেয়ে গাবতলী থানার ওসি এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন (ক্রাইম) মোহাম্মদ রায়হান সাংবাদিকদের জানান, নিহত সাইফুল ইসলামের গলা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক কোনও বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যারহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা করেন, ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

এর আগে, শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা ট্যাংক সাঁকো এলাকায় বাবার গ্যারেজে কিশোর মেকানিক আলিফ শাহকে (১৬) খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১১টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা রিপন শাহ সদর থানায় মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার বা হত্যারহস্য উন্মোচিত করতে পারেনি।

এ ছাড়া বড় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে ফাহিম হোসেন (১৯) নামে এক ঢালাই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় কাজে যাওয়ার সময় সদর উপজেলা পরিষদের সামনে মাটিডালি বিমান মোড়ে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি পৌর ছাত্রদলের ১৭নং ওয়ার্ড শাখার সদস্য ছিলেন। সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, এ হত্যায় জড়িত সন্ত্রাসী তনয় (১৯) ও অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কাতারের আকাশসীমায় ইরানের আগ্রাসন প্রতিহত: দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

বগুড়ায় পরিবহন ব্যবসায়ীকে হত্যা

আপডেট সময় : ০৪:০৯:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বগুড়ার গাবতলীতে সাইফুল ইসলাম (৪০) নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাতে উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ায় নিজ বাড়ির পাশে একটি জমিতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে তিন দিনে জেলায় তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটলো। আগের দুটি হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদঘাটন না হতেই তৃতীয় হত্যার ঘটনায় মানুষের মাঝে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

রবিবার দুপুরে গাবতলী থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, তাৎক্ষণিকভাবে হত্যার কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত সাইফুল ইসলাম বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোন্দাবাড়ী পূর্বপাড়ার জামাল উদ্দিন জামুর ছেলে। তিনি আগে ট্রাক চালাতেন। বর্তমানে ছোটবড় সাতটি ট্রাকের মালিক। তিনি প্রতিদিন কাজ শেষে গভীর রাতে বাড়ি ফিরতেন। রবিবার সকাল পর্যন্ত বাড়িতে না পৌঁছানোয় পরিবারের সদস্যরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। ফোন দিয়েও তার কোনও সাড়া মেলেনি। পরে বাড়ির উত্তর পাশে একটি ঘাসের জমিতে তার গলাকাটা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

নিহতের মেয়ে সাদিয়া আকতার জানান, তার বাবা সাইফুল ইসলাম প্রতিদিন রাতে দেরি করে বাড়ি ফিরতেন। শনিবার রাতে বাড়ি না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে সন্ধান পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল। রবিবার সকালে বাড়ির পাশে জমিতে তার মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে পরিবারের সদস্যরা এ হত্যাকাণ্ডের কারণ বলতে পারেননি।

এদিকে, হত্যার খবর পেয়ে গাবতলী থানার ওসি এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে আসেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হোসাইন (ক্রাইম) মোহাম্মদ রায়হান সাংবাদিকদের জানান, নিহত সাইফুল ইসলামের গলা, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ব্যবসায়িক কোনও বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। হত্যারহস্য উদ্ঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে। তিনি আশা করেন, ঘাতকদের দ্রুত গ্রেফতার করা সম্ভব হবে।

এর আগে, শুক্রবার সকালে বগুড়া শহরের নিশিন্দারা ট্যাংক সাঁকো এলাকায় বাবার গ্যারেজে কিশোর মেকানিক আলিফ শাহকে (১৬) খুঁচিয়ে হত্যা করা হয়। তার গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ১১টি ধারালো অস্ত্রের আঘাত ছিল। এ ব্যাপারে নিহতের বাবা রিপন শাহ সদর থানায় মামলা করলেও পুলিশ কাউকে গ্রেফতার বা হত্যারহস্য উন্মোচিত করতে পারেনি।

এ ছাড়া বড় বোনকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটেদের ছুরিকাঘাতে ফাহিম হোসেন (১৯) নামে এক ঢালাই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় কাজে যাওয়ার সময় সদর উপজেলা পরিষদের সামনে মাটিডালি বিমান মোড়ে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি পৌর ছাত্রদলের ১৭নং ওয়ার্ড শাখার সদস্য ছিলেন। সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, এ হত্যায় জড়িত সন্ত্রাসী তনয় (১৯) ও অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।