ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারাদেশে হামলা ও সহিংসতার অভিযোগ তুলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি (ভিপি) আবু সাদিক কায়েম। তিনি অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও মারামারির যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তা ফ্যাসিবাদী আমলের রাজনীতির পুনরাবৃত্তি। এই সহিংসতা বন্ধ না হলে এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা না হলে পুনরায় রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ভিপি আবু সাদিক কায়েম এই কড়া বার্তা দেন।
‘হাসিনাবাদী’ রাজনীতির পুনরাবৃত্তির অভিযোগ: সংবাদ সম্মেলনে ডাকসু ভিপি বলেন, “জুলাই বিপ্লব হয়েছিল ফ্যাসিবাদী কাঠামো ভেঙে দেওয়ার জন্য। হাসিনাবাদী রাজনীতিকে উপড়ে ফেলে নতুন রাজনীতি বিনির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর আমরা যা দেখছি, তা অত্যন্ত হতাশাজনক। সেই আগের মতো সহিংসতা, মারামারি ও দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই ‘সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি’ নতুন বাংলাদেশে চলবে না।
তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান ও হুঁশিয়ারি: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে আবু সাদিক কায়েম বলেন, “আপনার নেতা-কর্মীদের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিন। নির্বাচন-পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সারাদেশে তিনটি লাশ পড়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে যদি আপনারা ব্যর্থ হন, তবে আমরা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হব।”
সহিংসতার ধরন নিয়ে জিএস এস এম ফরহাদের বক্তব্য: সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ চলমান সহিংসতার একটি চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দুই ধরনের ঘটনা ঘটছে: ১. যেসব আসনে বিএনপির প্রার্থী পরাজিত হয়েছেন, সেখানে পরাজয়ের দায় বিদ্রোহী বা অন্য প্রার্থীদের ওপর চাপিয়ে নিজ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। ২. যেখানে বিএনপি বিজয়ী হয়েছে, সেখানে জামায়াত ও এনসিপির (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের ওপর হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে।
ফরহাদ আরও অভিযোগ করেন, এই হামলায় ৯ বছরের শিশু থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও আক্রান্ত হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ বা স্পষ্ট বক্তব্য আসছে না। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও অনেক ক্ষেত্রে নীরব ভূমিকা পালন করছে।”
ডাকসু নেতৃবৃন্দ মনে করেন, একটি নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সরকারি ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ প্রত্যাশিত ছিল। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের এই চিত্র নতুন সরকারের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে ডাকসুর অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁরা সম্মিলিতভাবে সারাদেশে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার দাবি জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























