ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের মহাপরিকল্পনা: শান্তি বাহিনী ও কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

গাজা উপত্যকার অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সেখানে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও বিস্তারিত প্রস্তাবনা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস)-এর বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ওয়াশিংটনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশের সরকারপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এই শান্তি পর্ষদের সনদ উন্মোচন করেছিলেন ট্রাম্প। এই পর্ষদে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান, আজারবাইজান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো সদস্য হিসেবে রয়েছে। আসন্ন বৈঠকে গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে কোন দেশ কত সংখ্যক সেনা পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার একটি তালিকাও ট্রাম্প ঘোষণা করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যেই গাজায় শান্তিরক্ষী পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গাজায় শান্তি বজায় রাখতে আট হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো এবং সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাকের মধ্যে এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো সংবাদমাধ্যমকে জানান, শান্তিচুক্তি সম্ভব হলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবেন।

তবে গাজা পুনর্গঠনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিয়ে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূলত সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করতে চাচ্ছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যিনি বর্তমানে প্রশাসনে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে অত্যন্ত প্রভাবশালী, তিনি দাভোসে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও এই তহবিল সংগ্রহের পথ খুব একটা মসৃণ নয়। এর আগে গত নভেম্বরে গাজা পুনর্গঠনের জন্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অর্থের অনুরোধ জানানো হলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাতে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে কাতারও এই মূহূর্তে কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-সানি দোহা ফোরামে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেভাবে পুরো গাজা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে, তাতে তারা এমন কোনো চেকে স্বাক্ষর করতে চান না যা পুনরায় ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ ফেব্রুয়ারির এই বৈঠকটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ‘টেস্ট কেস’ হতে যাচ্ছে। গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এই বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে। গত নভেম্বরে জাতিসংঘ গাজায় শান্তিরক্ষী মোতায়েনের ম্যান্ডেট দিলেও অনেক মুসলিম দেশ এতে যোগ দিতে দ্বিধাবোধ করছে। তাদের আশঙ্কা, এই শান্তিরক্ষীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল তার দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে পারে। ফলে এই সংকট নিরসনে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নাবিক নয়, বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের দূত: নৌ প্রতিমন্ত্রী

গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের মহাপরিকল্পনা: শান্তি বাহিনী ও কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩১:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজা উপত্যকার অবকাঠামো পুনর্গঠন ও সেখানে দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কয়েক বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে এই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে জাতিসংঘের ম্যান্ডেট অনুযায়ী একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীল বাহিনী মোতায়েনের বিষয়েও বিস্তারিত প্রস্তাবনা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিতব্য ‘শান্তি পর্ষদ’ (বোর্ড অব পিস)-এর বৈঠকে তিনি এই পরিকল্পনাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, ওয়াশিংটনের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বিশ্বের অন্তত ২০টি দেশের সরকারপ্রধান ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। উল্লেখ্য, গত মাসে সুইজারল্যান্ডের দাভোসে এই শান্তি পর্ষদের সনদ উন্মোচন করেছিলেন ট্রাম্প। এই পর্ষদে কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, পাকিস্তান, আজারবাইজান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলো সদস্য হিসেবে রয়েছে। আসন্ন বৈঠকে গাজায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে কোন দেশ কত সংখ্যক সেনা পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তার একটি তালিকাও ট্রাম্প ঘোষণা করতে পারেন বলে আভাস পাওয়া গেছে।

ইতোমধ্যেই গাজায় শান্তিরক্ষী পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা গাজায় শান্তি বজায় রাখতে আট হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবো সুবিয়ান্তো এবং সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাকের মধ্যে এক বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রেসিডেন্ট সুবিয়ান্তো সংবাদমাধ্যমকে জানান, শান্তিচুক্তি সম্ভব হলে এবং আন্তর্জাতিকভাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তারা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামবেন।

তবে গাজা পুনর্গঠনের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নিয়ে এখনো বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট মূলত সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অংকের তহবিল সংগ্রহ করতে চাচ্ছেন। ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, যিনি বর্তমানে প্রশাসনে কোনো আনুষ্ঠানিক পদে না থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে অত্যন্ত প্রভাবশালী, তিনি দাভোসে এই পুনর্গঠন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তিনি নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

যদিও এই তহবিল সংগ্রহের পথ খুব একটা মসৃণ নয়। এর আগে গত নভেম্বরে গাজা পুনর্গঠনের জন্য হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে অর্থের অনুরোধ জানানো হলে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাতে বিশেষ আগ্রহ দেখাননি। অন্যদিকে কাতারও এই মূহূর্তে কোনো আর্থিক প্রতিশ্রুতি দিতে নারাজ। কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-সানি দোহা ফোরামে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেভাবে পুরো গাজা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে, তাতে তারা এমন কোনো চেকে স্বাক্ষর করতে চান না যা পুনরায় ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১৯ ফেব্রুয়ারির এই বৈঠকটি ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ‘টেস্ট কেস’ হতে যাচ্ছে। গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা এই বৈঠকেই স্পষ্ট হতে পারে। গত নভেম্বরে জাতিসংঘ গাজায় শান্তিরক্ষী মোতায়েনের ম্যান্ডেট দিলেও অনেক মুসলিম দেশ এতে যোগ দিতে দ্বিধাবোধ করছে। তাদের আশঙ্কা, এই শান্তিরক্ষীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইসরায়েল তার দখলদারিত্ব ও আগ্রাসন অব্যাহত রাখতে পারে। ফলে এই সংকট নিরসনে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।